মাঠের বাইরে নতুন করে আইনি ঝামেলার মুখে পড়েছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। এবার তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার নিজেরই বাসভবনের এক ব্যক্তিগত রাঁধুনি।
অতিরিক্ত কাজের চাপ, শ্রম আইন লঙ্ঘন এবং শারীরিক ক্ষতির অভিযোগে নেইমারের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের আদালতে মামলা করেছেন ওই নারী কর্মী। এই খবরটি নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম মেট্রোপোলস।
মামলার নথিতে ওই রাঁধুনি অভিযোগ করেন, নেইমারের রিও ডি জেনিরোর মানগারাতিবা প্রাসাদে তাকে প্রতিদিন গড়ে ১৬ ঘণ্টারও বেশি কাজ করতে হতো।
চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ দিন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ডিউটি থাকার কথা থাকলেও, বাস্তবে তাকে গভীর রাত পর্যন্ত খাটতে হতো। এমনকি সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তাকে কাজ করতে বাধ্য করা হতো বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগকারী ওই নারী জানান, নেইমারের বাড়িতে তার বন্ধু-বান্ধব ও স্বজন মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের জন্য রান্না করতে হতো। সকালের নাস্তা থেকে শুরু করে রাতের খাবার পর্যন্ত সব আয়োজন একাই সামলাতে হতো তাকে। এই বিপুল পরিমাণ রান্নার চাপে তিনি খাওয়ার বা বিশ্রামের জন্য ন্যূনতম বিরতিও পেতেন না।
রাঁধুনির দাবি, তাকে শুধু রান্নাই নয়, বরং ভারী মালামাল বহনের কাজও করতে হতো। বাজার থেকে আসা ভারী মাংসের ব্যাগ ও অন্যান্য সামগ্রী তাকে একাই খালাস করতে হতো।
দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা এবং ভারী ওজন বহনের ফলে বর্তমানে তিনি পিঠের ব্যথা এবং নিতম্বের গুরুতর প্রদাহজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এই শারীরিক ক্ষতির জন্য তিনি নেইমারের কাছে নিয়মিত চিকিৎসা ও ভরণপোষণ ভাতাও দাবি করেছেন।
জানা গেছে, নেইমারের বাসায় এই কর্মীর নিবন্ধিত বেতন ছিল প্রায় ৪ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৩ হাজার টাকা)। তবে ওভারটাইমসহ তিনি মাসে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার রিয়াল (প্রায় ১ লাখ ৭৪ টাকা) হাতে পেতেন।
জানা যায়, অতিরিক্ত খাটুনি এবং শ্রম আইন ভঙ্গের দায়ে তিনি নেইমার ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ২ লাখ ৬২ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ লাখ ১০ হাজার টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
এদিকে, এই মামলার বিষয়ে নেইমারের ব্যক্তিগত প্রতিনিধিরা এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন