নটিংহ্যাম ফরেস্টের জন্য সপ্তাহান্তের শুরুটা যেমন স্বপ্নের মতো হয়েছিল, শেষটা ঠিক ততটা স্বস্তিদায়ক হয়নি। শুক্রবার রাতে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে ৫-০ গোলের বিশাল জয়ে ফরেস্ট সমর্থকরা যখন অবনমন থেকে মুক্তির সুবাতাস পাচ্ছিল, রোববারের চিত্র বলছে লড়াইটা এখনও শেষ বিন্দুতে দাঁড়িয়ে।
অবনমন অঞ্চলের অন্য দলগুলোও জয় পাওয়ায় চার ম্যাচ হাতে রেখে পয়েন্ট টেবিলের তলানির সমীকরণ এখন চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে।
গত শনিবারের বিকেলটি ছিল প্রিমিয়ার লিগের সেই পুরনো রোমাঞ্চে ঠাসা, যেখানে একই সময়ে অবনমন অঞ্চলের দলগুলোর লড়াই শুরু হয়। ওয়েস্ট হ্যাম বনাম এভারটন এবং টটেনহ্যাম বনাম উলভসের ম্যাচে প্রতি মিনিটে ভাগ্য বদলাতে দেখা গেছে।
ম্যাচের শেষ দিকে জোয়াও পালিনহার গোলে টটেনহ্যাম যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমে উইলসনের গোল ওয়েস্ট হ্যামকে এনে দেয় মূল্যবান তিন পয়েন্ট। ফলে টটেনহ্যামকে টপকে ফরেস্টের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে হ্যামার্সরা।
মৌসুমের এই পর্যায়ে এসে লিগের মধ্যবর্তী সারির দলগুলোর পারফরম্যান্স সবাইকে অবাক করেছে। বিশেষ করে নব-উন্নীত দলগুলো এবার গত দুই মৌসুমের তুলনায় অনেক বেশি পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে।
গত বছর যেখানে ২৬ বা ২৫ পয়েন্ট পেলেই টিকে থাকা সম্ভব ছিল, সেখানে এবার ৪০ পয়েন্টের চিরাচরিত ‘সেফ জোন’ বা নিরাপদ সীমানা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে ৪২ পয়েন্ট পেয়েও অবনমিত হওয়ার রেকর্ড আছে, এবারের তীব্র লড়াই সেই স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
লিগ টেবিলের এই চাপে বড় দলগুলোও খুব একটা স্বস্তিতে নেই। টানা চার হারে নিউক্যাসেল ইউনাইটেড এবং টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত থেকেও লিডস ইউনাইটেড এখনও রেলিগেশন জোন থেকে মাত্র কয়েক পয়েন্টের ব্যবধানে দাঁড়িয়ে।
এমনকি ক্রিস্টাল প্যালেস বা সান্ডারল্যান্ডও গাণিতিকভাবে এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। বিশেষ করে টটেনহ্যামের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে জাভি সিমন্সের ইনজুরির কারণে। এসিএল ইনজুরির কবলে পড়ে এই তারকা মিডফিল্ডারের ছিটকে যাওয়া স্পার্সদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে লিগের শেষ চারটি ম্যাচ এখন একেকটি ফাইনালের রূপ নিয়েছে। পিএসআর নিয়মের কড়াকড়িতে ক্লাবগুলোর মধ্যে যে ভারসাম্য তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মাঠের ফুটবলে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন