ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু শিরোপা জয়ের লড়াই নয়, এটি ফিফার সবচেয়ে বড় আয়ের উৎসও। সেই আয়ের একটি অংশ বিশ্বের সদস্য ফুটবল ফেডারেশনগুলোর উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। ফলে বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ফিফার এই তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা পাবে।
১৯৩০ সালে ১৩ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ বর্তমানে ৪৮ দলের টুর্নামেন্টে পরিণত হয়েছে। অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ফিফার বাণিজ্যিক আয় এবং পুরস্কার তহবিলও।
২০২৬ বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২২ আসরের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। তবে এই অর্থ কেবল অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য নয়। বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত রাজস্বের একটি অংশ ফিফা তাদের সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দিয়ে থাকে। সেই ব্যবস্থার আওতায় বাফুফেও অর্থ সহায়তা পাবে।
সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর মতে, ফিফার অন্যতম লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর ফুটবলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তাই বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এবার দলসংখ্যা ৪৮-এ উন্নীত হওয়ায় এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বেড়েছে। এতে এসব অঞ্চলে ফুটবলের বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দল প্রস্তুতি ক্যাম্প ও যাতায়াত ব্যয়ের জন্য শুরুতেই ২৫ লাখ মার্কিন ডলার পেয়েছে। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ডলার। দ্বিতীয় রাউন্ডে বিদায় নেওয়া দলগুলোর প্রাপ্তি ১ কোটি ২০ লাখ ডলার।
শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পাবে ২ কোটি ডলার।
চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দলের জন্য বরাদ্দ ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাবে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার, রানার্সআপ দল পাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং ২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন দল ঘরে তুলবে রেকর্ড ৫ কোটি মার্কিন ডলার।

