ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এবার মাঠে নামছেন অ্যাথলেটরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

করোনা মহামারীর সেই দিনগুলোতে ব্রিটেনের ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দেওয়া সরকারি ব্রিফিংগুলো ছিল সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার দিকনির্দেশনা। অধ্যাপক ক্রিস হুইটি কিংবা প্যাট্রিক ভ্যালেন্সের মুখগুলো তখন ঘরে ঘরে পরিচিত নাম। মহামারীর সেই লেকচার টেবিলগুলো চার বছর আগে সরিয়ে ফেলা হলেও, এখন নতুন এক ‘জরুরি অবস্থা’ নিয়ে হাজির হয়েছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা। আর এই লড়াইয়ে মানুষের কাছে পৌঁছাতে তাদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ‘খেলাধুলা’।

জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রকৃতির বিপর্যয় সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়তে সম্প্রতি লন্ডনে আয়োজিত হয়েছিল ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ব্রিফিং’। সেখানে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সমবেত হয়ে বর্তমান সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। 

সেই আয়োজনকে ভিত্তি করে নির্মিত ৪৫ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্র ‘দ্য পিপলস ইমার্জেন্সি ব্রিফিং’ এখন ব্রিটিশ সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রদর্শিত হচ্ছে। পরিবেশবিদদের লক্ষ্য, বিজ্ঞানের এই কঠিন বার্তাটি খেলাধুলার আবেগের সাথে মিশিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়িত্ব বিষয়ক বিজ্ঞানী ও প্রামাণ্যচিত্রটির অন্যতম বক্তা অধ্যাপক পল বেরেনস জানান, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে আমাদের খাদ্য ব্যবস্থা থেকে। বর্তমানে ফুটবল, টেনিস ও মোটর স্পোর্টসের অনেক বিশ্বখ্যাত অ্যাথলেট ‘প্ল্যান্ট-রিচ’ বা উদ্ভিদজাত খাবার গ্রহণ করছেন। এটি যেমন খেলোয়াড়দের ফিটনেস বাড়াচ্ছে, তেমনি পৃথিবীর কার্বন নিঃসরণ কমাতেও বড় ভূমিকা রাখছে।

তবে জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কেবল আলোচনার বিষয় নয়, এটি সরাসরি আঘাত হানছে খেলার মাঠেও। দ্য গার্ডয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্যের তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবল ক্লাবগুলোর এক-তৃতীয়াংশ বন্যায় বছরে প্রায় দুই মাস খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। 

তীব্র গরমে ক্রিকেটারদের অসুস্থ হয়ে পড়া কিংবা টোকিও অলিম্পিকের ম্যারাথন উত্তাপের কারণে কয়েকশ মাইল দূরে সরিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাগুলো এখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অধ্যাপক বেরেনসের আরও জানান, বেশিরভাগ খেলাধুলা হয় খোলা আকাশের নিচে। আর সেই আকাশ এখন বৈরী হয়ে উঠছে। যখন কোনো স্থানীয় ক্লাবের মাঠ বন্যায় তলিয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে জলবায়ু সংকট কতটা বাস্তব। অ্যাথলেট ও স্পোর্টস ক্লাবগুলো এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

ইতিমধ্যেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সাইক্লিস্ট কেট স্ট্রং এবং অলিম্পিক সেইলর লরা বাল্ডউইন এই প্রচারণায় সরাসরি যুক্ত হয়েছেন। লরা বাল্ডউইন তার অভিজ্ঞতায় বলেন, বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো জানার পরও যখন বাস্তবের চিত্র দেখি, তখন শিউরে উঠতে হয়। তবে এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের সবার একসাথে কাজ করার সুযোগ রয়েছে, যা আমাদের নতুন এক উদ্দেশ্য খুঁজে দেয়।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান