নাইজেরিয়ায় ক্রমবর্ধমান ইসলামপন্থি বিদ্রোহী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি মোকাবিলায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা দিতে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা সেখানে পৌঁছেছে। তারা নাইজেরীয় সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সামাইলা উবা জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাউচি রাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সেনারা সরাসরি কোনো যুদ্ধ অভিযানে অংশ নেবেন না। নাইজেরিয়া সরকারের অনুরোধেই তারা দেশটিতে এসেছেন।
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি ইসলামপন্থি গোষ্ঠীর দুটি ক্যাম্পে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালায়। ওই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার এটিই সবচেয়ে বড় দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বোকো হারাম, ইসলামিক স্টেট ইন ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি) এবং নবগঠিত লাকুরাওয়ার মতো গোষ্ঠীর তৎপরতা দমনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেজর জেনারেল সামাইলা উবা এক বিবৃতিতে বলেন, এই সহযোগিতার মাধ্যমে বিশেষায়িত কারিগরি সক্ষমতা অর্জিত হবে। এতে সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের অরক্ষিত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া সহজ হবে।
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়া বর্তমানে বহুমুখী নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। একদিকে ইসলামপন্থি বিদ্রোহ, অন্যদিকে অপরাধী চক্রের লুটতরাজ ও অপহরণ এবং ভূমি বিরোধ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
মার্কিন আফ্রিকা কমান্ড চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছোট সামরিক দল আগে থেকেই নাইজেরিয়ায় কাজ করছে। নাইজেরীয় সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভবিষ্যতে আরও প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা সেখানে মোতায়েন হতে পারেন।
গত বছরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সে সময় ট্রাম্প সেখানে ‘খ্রিস্টান গণহত্যা’ চলছে বলে দাবি করেন। তবে নাইজেরিয়া সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, মুসলিম ও খ্রিস্টান—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
নাইজেরিয়া সরকার এই সামরিক সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর সোকোতো রাজ্যে ইসলামপন্থি গোষ্ঠী লাকুরাওয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু—এ তথ্যও নিশ্চিত করেছে সরকার।
২৫০টিরও বেশি জাতিগোষ্ঠীর বসবাসকারী নাইজেরিয়ায় উত্তরাঞ্চল প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত এবং দক্ষিণাঞ্চল খ্রিস্টান অধ্যুষিত। এই ভৌগোলিক বিভাজনের কারণে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বিদ্যমান।

