সাম্প্রতিক এক গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে বিশ্বজুড়ে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বাড়তে পারে। এর ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আর্জেন্টিনার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক ২০০০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১৫৬টি দেশে শারীরিক কার্যকলাপের ওপর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি বিস্তারিত গবেষণা পরিচালনা করেন। তাদের গবেষণার ফলাফলেই এই কথা বলা হয়েছে। যা প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ’ জার্নালে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে গড় তাপমাত্রা ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকা প্রতিটি অতিরিক্ত মাসে বিশ্বব্যাপী শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে বছরে আনুমানিক ৪ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৭ লাখ অকালমৃত্যু ঘটতে পারে এবং প্রায় ৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার উৎপাদনশীলতার ক্ষতি হতে পারে।
গবেষণাটি আরও ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছে, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান, সাব-সাহারান পূর্ব আফ্রিকা এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি প্রকট হবে। এসব অঞ্চলে প্রতি মাসে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
গবেষকরা জানান, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বাইরের শারীরিক কার্যকলাপের সময় কার্ডিওভাসকুলার চাপ ও পরিশ্রম বাড়িয়ে দেয়, যা ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২০ সালের মধ্যে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ১৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় গবেষকরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। এগুলো হলো- ১) উচ্চ তাপমাত্রা সহনীয় করে শহর ও ক্রীড়া অবকাঠামোর নকশা তৈরি।, ২) শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জিম ও ক্রীড়া সুবিধা বৃদ্ধি।, ৩) তাপজনিত ঝুঁকি ও শারীরিক কার্যকলাপের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।
গবেষকদের মতে, শারীরিক কার্যকলাপকে কেবল বিনোদনের বিষয় হিসেবে না দেখে জলবায়ু-সংবেদনশীল একটি অপরিহার্য প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। তা না হলে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বৃদ্ধি, কার্ডিওভাসকুলার ও বিপাকীয় রোগের ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বেড়ে যেতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন