খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যস্ততার মাঝেই কাগজের ছোট ছোট টুকরোয় নিজের অনুভূতি লিখে রাখতেন চীনের ডেলিভারি রাইডার ওয়াং জিবিং। সেই লেখাগুলোরই পরিণতি তাকে এনে দিয়েছে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লু সুন সাহিত্য পুরস্কার।
বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী ওয়াং ২০১৯ সালে খাবার সরবরাহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকেই তিনি কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করতেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তার লেখাগুলো পাঠকদের নজর কাড়ে এবং তিনি একজন পরিচিত সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি পান।
২০২৪ সালে প্রকাশিত তার কাব্যগ্রন্থ ‘লো ফ্লাইট’-এ ডেলিভারি কর্মীদের প্রতিদিনের সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা, কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। বইটির জন্যই তিনি চীনের আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম অগ্রদূত লু সুনের নামে প্রবর্তিত এই সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে ওয়াং বলেন, ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত তিনি ভীষণ উদ্বিগ্ন ছিলেন। বিজয়ীর নাম ঘোষণার পর যেন সবকিছু থমকে গিয়েছিল। তবে পুরস্কারের পর গণমাধ্যমের অতিরিক্ত আগ্রহ তাঁর ওপর মানসিক চাপও তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চীনের জিয়াংসু প্রদেশে জন্ম নেওয়া ওয়াং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অল্প বয়সেই পড়াশোনা বন্ধ করতে বাধ্য হন। জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি নির্মাণশ্রমিক, বর্জ্য সংগ্রহকারী ও পথের ধারে পণ্য বিক্রেতাসহ নানা পেশায় কাজ করেছেন। কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও বই পড়ার অভ্যাস ধরে রেখেছেন এবং গত এক দশক ধরে নিয়মিত কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে আসছেন।
সম্মানজনক সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার পরও ডেলিভারি রাইডারের কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ওয়াং। তার মতে, জীবিকা নির্বাহের জন্য এই কাজ এখন আর অপরিহার্য না হলেও তিনি কাজটির পরিবেশ উপভোগ করেন। এটি তাকে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সাহায্য করে। তার বিশ্বাস, এই স্বীকৃতি তাঁর জীবনদর্শন বা জীবনযাপনকে বদলে দেবে না।
সূত্র: বিবিসি

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন