ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আবারও বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১২, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ঘিরে নতুন করে জটিলতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ায় একদিনের ব্যবধানে তেলের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি পৌঁছেছে ১০৭ দশমিক ৬৮ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০১ দশমিক ৬১ ডলারে। এ ক্ষেত্রেও বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগের লেনদেন দিনেও দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ করে বেড়েছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি ও শান্তি উদ্যোগ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতবিরোধ আরও তীব্র হওয়ায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। দুই দেশই একে অপরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তারা।

কমার্সব্যাংকের বিশ্লেষক কার্স্টেন ফ্রিজ বলেছেন, উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমীন নাসের সতর্ক করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হতে থাকলে বিশ্ববাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাজার বিশেষজ্ঞ টিম ওয়াটারারের ধারণা, যদি শান্তি চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়, তাহলে তেলের দাম দ্রুত ৮ থেকে ১২ ডলার পর্যন্ত কমে আসতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে কিংবা হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন সংকট তৈরি হলে ব্রেন্ট তেলের দাম আবারও ১১৫ ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে।