ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সিডনিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করলেন বাংলাদেশি

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্যাম্পবেলটাউনে এক নারী ও দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সি এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহতরা অভিযুক্তের স্ত্রী ও দুই সন্তান বলে স্থানীয় কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার (১৮ মে) রাত ৮টার কিছু আগে ক্যাম্পবেলটাউনের রেমন্ড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি থেকে জরুরি নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ ও জরুরি সেবা কর্মীরা। পরে বাড়িটি থেকে ৪৬ বছর বয়সি এক নারী এবং চার ও ১২ বছর বয়সি দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার আদালতের নথি অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৭টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকেই ৪৭ বছর বয়সি মো. শোমন আহমেদকে আটক করা হয় এবং পরে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

বাংলাদেশি কমিউনিটি সূত্র জানিয়েছে, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পবেলটাউনের রেমন্ড অ্যাভিনিউ এলাকায় বসবাস করছিল। পরিবারের বাবা সন্তানদের পূর্ণকালীন দেখাশোনা করতেন, আর মা কর্মজীবী ছিলেন। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি।

মঙ্গলবার ক্যাম্পবেলটাউন লোকাল কোর্টে মামলাটি সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি জামিন আবেদনও করেননি। আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তার জামিন নামঞ্জুর করে এবং আগামী ১৫ জুলাই তাকে আবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়।

অভিযুক্তের আইনজীবী জাওয়াদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তার মক্কেল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে নিহতদের পরিবার ও পুরো কমিউনিটির প্রতি সমবেদনা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পরিবারটি নিরিবিলি জীবনযাপন করত এবং খুব বেশি সামাজিক মেলামেশা করত না। প্রতিবেশীরা ঘটনার পর গভীর শোক ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাড়ির বিভিন্ন অংশ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত এখনই জানানো না গেলেও মরদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থলটি ছিল অত্যন্ত সহিংস।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে কোনো পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ ছিল না এবং তিনি পূর্বে পুলিশের নজরেও ছিলেন না।

এ ঘটনায় পুরো কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে, ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।