আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় ভারতে ফের বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) থেকে ভারতে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ২ দশমিক ৭১ রুপি এবং পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৬১ রুপি বাড়ানো হয়েছে বলে ডিলার সূত্রে জানা গেছে। চলতি মাসে এটি নিয়ে চতুর্থবারের মতো জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করল ভারত সরকার।
দেশটির জ্বালানি বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন (আইওসি), ভারত পেট্রোলিয়াম (বিপিসিএল) ও হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (এইচপিসিএল) কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই ধাপে ধাপে দাম বাড়ানো শুরু করে। ১৫ মে থেকে এখন পর্যন্ত ডিজেলের দাম প্রায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম প্রায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।
নতুন দামে রাজধানী দিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক ১২ রুপি এবং ডিজেলের দাম হয়েছে ৯৫ দশমিক ২০ রুপি।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের এই অস্থিরতার পেছনে হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ সংকটকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেল পরিবহনে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতও এর প্রভাব সরাসরি অনুভব করছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত সরকার জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে। তবে স্থানীয় কর কাঠামোর কারণে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে জ্বালানির দামে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
এদিকে তুলনামূলক কম দামে খুচরা পাম্প থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কিনছেন অনেক পাইকারি ক্রেতা। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে এবং কিছু অঞ্চলে সরবরাহ সংকটও তৈরি হয়েছে।
আইওসির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের ১ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত ডিজেল বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে পেট্রোল বিক্রিও বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন