ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সুদানে ড্রোন হামলায় ১৪ জন নিহত

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২৭, ২০২৬, ০৪:৩৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত

সুদানের  চাদ সীমান্তবর্তী কৌশলগত শহরআল-তিনায় ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দেশটির আধাসামরিক বাহিনী ‘দ্রুত সহায়তা বাহিনী’কে এ হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) এক প্রত্যক্ষদর্শী এবং সুদানের এক সরকারি কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গত সোমবার আল-তিনা বাজারের একটি খাবারের দোকানে ড্রোন হামলা চালানো হয়। সেখানে স্থানীয় নারীরা খাবার ও চা বিক্রি করছিলেন। হামলার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করেন, যাদের বেশিরভাগই নারী।

তিনি আরও জানান, সুদানে বর্তমানে তীব্র যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা চলায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্ব গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সুদানের এক সরকারি কর্মকর্তা হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কর্তৃপক্ষ হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিরূপণের কাজ করছে।

দারফুর অঞ্চলের দূর পশ্চিমে চাদ সীমান্তে অবস্থিত আল-তিনা চলতি বছর থেকেই দ্রুত সহায়তা বাহিনীর নিয়মিত হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শহরটি বর্তমানে দুর্ভিক্ষের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যুদ্ধ ও অনাহারের কারণে ইতোমধ্যে হাজার হাজার সুদানি নাগরিক সীমান্ত পেরিয়ে চাদে আশ্রয় নিয়েছেন।

গত বছর দ্রুত সহায়তা বাহিনী দারফুর অঞ্চলের প্রায় পুরো অংশের নিয়ন্ত্রণ নিলেও, চাদ সীমান্তবর্তী আল-তিনাসহ কয়েকটি এলাকা এখনো সরকারি সেনাবাহিনীর মিত্র ‘যৌথ বাহিনী’র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধে ড্রোন হামলা এখন অন্যতম প্রধান মারণাস্ত্রে পরিণত হয়েছে। নিজেদের স্থলবাহিনীকে সম্মুখসমরের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে উভয় পক্ষই ব্যাপকভাবে মনুষ্যবিহীন উড়োজাহাজ ব্যবহার করছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এসব হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন চতুর্থ বছরে গড়িয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এ সংঘাতের ফলে সুদানে বিশ্বের অন্যতম বড় খাদ্য ও বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি হয়েছে। যুদ্ধে এখন পর্যন্ত আনুমানিক দুই লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। উত্তর দারফুরে অবস্থিত আল-তিনা অঞ্চলে বর্তমানে ১৭ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং লাখো মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছেন।