চলতি বছরের জুলাইয়ে চিলির এলিয়েন টেলিস্কোপে ধরা পড়ে এক অদ্ভুত মহাজাগতিক বস্তু ৩আই/অ্যাটলাস। কী এই বস্তু, কোথা থেকে এলো, কার সৃষ্টি, কেন এমন গতিপথ, কবে পৃথিবীর কাছে আসবে, আর কীভাবে এটি চলছে —এসব প্রশ্নে এখন তীব্র বিতর্ক চলছে বিশ্বজুড়ে। এনবিসি বোস্টনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ অধ্যাপক অ্যাভি লোব দাবি করেছেন, ৩আই/অ্যাটলাস কেবল ধূমকেতু নয়। তার মতে, এটি এলিয়েন সভ্যতার তৈরি একটি প্রযুক্তিগত যানও হতে পারে।
নাসার হিসাবে, এটি আমাদের সৌরজগতে প্রবেশ করা তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু। অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিষয়টি বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে। ৩আই/অ্যাটলাসের আকার প্রায় ২০ কিলোমিটার। এটি ম্যানহাটনের চেয়েও বড়। বস্তুটির গতি ঘণ্টায় ১ লাখ ৩০ হাজার মাইলের বেশি। ফলে এটি এখন পর্যন্ত সৌরজগতের দ্রুততম বস্তু।
অধ্যাপক লোব বলেছেন, বস্তুটির গতিপথ স্বাভাবিক নয়। এটি শুক্র, মঙ্গল ও বৃহস্পতির কাছ দিয়ে যাবে। তার মতে, এটি পরিকল্পিত গতিপথও হতে পারে, যা কোনো গুপ্তচর মিশনের অংশ। ৩আই/অ্যাটলাসের সামনে থেকে আলো নির্গত হচ্ছে। সাধারণ ধূমকেতুর মতো পেছনে আলোর লেজ নেই। এ কারণেই এটিকে আরও রহস্যময় মনে হচ্ছে।
লোবের সহযোগী অ্যাডাম হিবার্ড ও অ্যাডাম ক্রাউল জানিয়েছেন, বস্তুটির গতিপথ পৃথিবীর কক্ষপথের সমতলে মাত্র ০.২ শতাংশ সম্ভাবনায় রয়েছে। আকার ও গতিপথ দুটিই একে আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্রহাণুর চেয়ে আলাদা করেছে।
তারা একে যুক্ত করেছেন ‘ডার্ক ফরেস্ট হাইপোথিসিস’-এর সঙ্গে। এই ধারণা বলে, উন্নত সভ্যতা সম্ভাব্য শত্রু বা শিকার থেকে বাঁচতে নিজেদের আড়াল করতে পারে।
যদিও নাসা একে ধূমকেতু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। লোব বলছেন, এতে ধূমকেতুর মতো গ্যাস বা ধূলিকণার কোমা ও লেজ নেই। ফলে এটি প্রাকৃতিক বস্তুর মতো আচরণ করছে না। কিন্তু ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির রিচার্ড ময়েসল লোবের দাবিকে অযৌক্তিক বলেছেন। তার মতে, সব পর্যবেক্ষণ এটিকে একটি প্রাকৃতিক ধূমকেতুই নির্দেশ করে।
৩আই/অ্যাটলাস আগামী ৩০ অক্টোবর সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছাবে। দূরত্ব হবে প্রায় ১৩০ মিলিয়ন মাইল। ১৯ ডিসেম্বর এটি পৃথিবী থেকে ১৭০ মিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থান করবে।
তখন এটি পৃথিবীর বিপরীত দিকে সূর্যের কাছে থাকবে। লোব মনে করছেন, এ সময়টিই এর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য আদর্শ মুহূর্ত হতে পারে। তিনি নাসার কাছে মহাকাশযান পুনঃনির্দেশের আহ্বান জানিয়েছেন।
২০১৭ সালে ‘ওউমুয়ামুয়া’ এবং ২০১৯ সালে বোরিসভ ধূমকেতুর পর এটিই তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু। লোব আগেও ‘ওউমুয়ামুয়া’কে এলিয়েন প্রোব বলে দাবি করেছিলেন। তার গবেষণা গ্যালিলিও প্রজেক্টের অংশ, যা এলিয়েন প্রযুক্তি খুঁজে বের করতে কাজ করছে।
এই আবিষ্কার সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক্সসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনেকে লোবের তত্ত্বকে সমর্থন করেছেন। তবে অনেকেই একে কল্পবিজ্ঞানের গল্প বলে সমালোচনা করেছেন।
তবে লোব জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের উচিত সব সম্ভাবনা বিবেচনা করা এবং তথ্য দিয়ে সত্য যাচাই করা।’ এই রহস্যময় ঘটনা মহাকাশ গবেষণায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৩আই/অ্যাটলাস মানবজাতির সামনে এক অজানা সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন