ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

৯৪ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারকে চীনের ২৫ লাখ ডলারের সহায়তা অনুমোদন

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৫:০১ এএম
ছবি- সংগৃহীত

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজি সরবরাহে গণচীনের ২৫ লাখ মার্কিন ডলার অনুদানকে স্বাগত জানিয়েছে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউএনএইচসিআর জানায়, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সাউথ–সাউথ কো-অপারেশন তহবিলের অর্থায়নে এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী, অর্থাৎ প্রায় ৯৪ হাজার পরিবার পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি সুবিধা পাবে।

ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবির এলাকায় এই উদ্যোগ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, বৈশ্বিকভাবে মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে আসছে এবং অনেক জীবনরক্ষাকারী কর্মসূচি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এমন সময়ে চীনের এই অনুদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এই সহায়তা শুধু রান্নার গ্যাস সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেও সহায়তা করবে। এতে প্রমাণ হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলে যায়নি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তার তহবিল সংকুচিত হচ্ছে এবং এতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীন এই সংকটে সহায়তা আরও সম্প্রসারণ করছে। তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চীন ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে এখনো প্রায় ১১ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ইউএনএইচসিআর জানায়, এলপিজি সরবরাহের ফলে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের প্রয়োজন কমেছে। এতে শরণার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির মান উন্নত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এ উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছে।

ইভো ফ্রেইসেন বলেন, এলপিজি চালু হওয়ার পর নারী ও মেয়েদের আর জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য শিবিরের বাইরে যেতে হচ্ছে না। এতে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমেছে এবং শিশুরা পড়াশোনায় বেশি সময় দিতে পারছে।

ইউএনএইচসিআর আরও জানায়, রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সংহতি অত্যন্ত জরুরি। চীনের মতো অংশীদারদের সহায়তা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করছে।