ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নাইজেরিয়ায় ‘শক্তিশালী’ বিমান হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৮:৪০ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে ‘শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী’ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্রিসমাসের দিন রাতে ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

ট্রাম্পের দাবি, ওই অঞ্চলে আইএস যোদ্ধারা হামলা চালিয়ে নিরপরাধ খ্রিষ্টানদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ‘খ্রিষ্টানদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে—আগেই এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। আজ রাতে সেই সতর্কতার বাস্তব রূপ দেখা গেছে।’

মার্কিন সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) জানিয়েছে, নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এ হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে ‘একাধিক আইএস সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও সামাজিক মাধ্যমে নাইজেরিয়া সরকারের সহযোগিতার প্রশংসা করে ‘আরও অভিযান আসছে’ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এই সামরিক পদক্ষেপ আসে এমন এক সময়ে, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই ট্রাম্প পেন্টাগনকে নাইজেরিয়ায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করতে বলেছিলেন। তখন তিনি দেশটিতে খ্রিষ্টানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে নাইজেরিয়া সরকার সে দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মুসলিম ও খ্রিষ্টান—উভয় সম্প্রদায়কেই লক্ষ্য করছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।

তবে পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো বলেছে, তারা এমন কোনো প্রমাণ পায়নি, যেখানে আইএস সন্ত্রাসীরা মুসলিমদের চেয়ে খ্রিষ্টানদের বেশি হত্যা করছে।

আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দেশটি কার্যত মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের দ্বারা দুই ভাগে বিভক্ত।

ট্রাম্প যখন নাইজেরিয়ায় হামলার হুমকি দিচ্ছিলেন, তখন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনিবুর প্রশাসন জানিয়েছিল, আইএস বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের হামলা নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে হওয়া উচিত।

ড্যানিয়েল বাওয়ালা নামে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের এক উপদেষ্টা বলেছিলেন, আইএসের তৎপরতা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানকে তারা স্বাগত জানাবেন। তবে মনে রাখতে হবে, নাইজেরিয়া একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ।