ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ২ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো ৪০টি কবরের সন্ধান পেয়েছে প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সম্প্রতি খরায় বিধ্বস্ত দেশটির মসুল বাঁধের পানির স্তর নেমে যাওয়ার পর এসব কবরের সন্ধান পাওয়া যায়।
শনিবার (৩১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
ইরাকের দুহোক প্রদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জানায়, এখানে হেলেনিস্টিক যুগের (খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ সালের কাছাকাছি) অন্তত ৪০টি মাটির কফিনসহ ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় কবরস্থানগুলোর একটির সন্ধান মিলেছে। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত খননকাজ চালাচ্ছেন, যাতে আবার পানি বেড়ে যাওয়ার আগে সমাধিগুলো সংরক্ষণ ও প্রত্নবস্তুগুলো উদ্ধার করা যায়।
প্রাথমিক গবেষণায় ধারণা করা হচ্ছে, এই স্থানটিতে বিভিন্ন যুগের নিদর্শন আছে— নিনেভেহ ভি যুগ, প্রাচীন ও মধ্য ব্রোঞ্জ যুগ, মিতানি রাজ্য, নব্য-আসিরীয় সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে ইসলামি যুগ পর্যন্ত। খননকালে মাটির পাত্রের ভাঙা টুকরো এবং হেলেনিস্টিক যুগের অক্ষত প্রত্নবস্তু পাওয়া গেছে, যা এই বসতির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করছে।
সাইটটি দুহোক প্রদেশের দক্ষিণের পুরোনো খানকে গ্রামে অবস্থিত। মসুল বাঁধ ১৯৮৬ সালে নির্মিত হওয়ার পর গ্রামটি পানির নিচে চলে যায়। এ বছর অস্বাভাবিকভাবে পানির স্তর কমে যাওয়ায় ধ্বংসাবশেষ প্রকাশ্যে আসে এবং দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
দুহোক প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক বেক্স ব্রিফকানি বলেন, এই আবিষ্কার অঞ্চলটির ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তিনি আরও জানান, খননকাজ চালালে উত্তর মেসোপটেমিয়ার সাংস্কৃতিক বিনিময় ও ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য মিলবে।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন