ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে মিয়ামিতে রুশ-মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠক

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১২:৫৪ পিএম
রুশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিবৃন্দ। ছবি- সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা একটি বৈঠক করেছেন। মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির আহ্বানের পর শনিবার (২০ ডিসেম্বর) মার্কিন শহর মিয়ামিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার এই বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকের পর দিমিত্রিভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠক ইতিবাচক ছিল। আলোচনা গঠনমূলকভাবে এগিয়ে চলেছে এবং রোববারও বৈঠক চলবে।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, তিনি মিয়ামিতে আলোচনায় যোগ দিতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনো অনেক পথ বাকি রয়েছে।’

রুবিওর কথায়, ‘আমরা যে ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছি তা হলো এখানে এমন কোনো ওভারল্যাপ আছে কি না তা খুঁজে বের করা যা তারা একমত হতে পারে এবং আমরা এটার জন্য অনেক সময় ও শক্তি বিনিয়োগ করেছি এবং এখনো তা করে যাচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা সম্ভব নাও হতে পারে। আমি আশা করি, এটি সম্ভব হবে। আমি আশা করি, এটি এই মাসে, বছর শেষের আগে সম্পন্ন হবে।’

ট্রাম্পের দূতরা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেনীয়, রুশ ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছেন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন যে, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।

তবে ভূখণ্ড ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা গ্যারান্টির বিষয়গুলোতে মতানৈক্য রয়ে গেছে যাকে কিয়েভ যেকোনো চুক্তির জন্য অপরিহার্য বলে আসছে। অন্যদিকে রাশিয়া ইউক্রেনে দখল করা তার বিস্তৃত আঞ্চলিক দাবি ত্যাগ করতে ইচ্ছুক, তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

জেলেনস্কি বলেছেন যে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন আলোচনা প্রক্রিয়ায় তার সমর্থন রয়েছে। তবে কূটনীতির সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। শনিবার তিনি বলেন, ‘আমেরিকাকে স্পষ্টভাবে বলতে হবে, যদি কূটনীতি না হয়, তাহলে পূর্ণ চাপ থাকবে... পুতিন এখনো সেই ধরনের চাপ অনুভব করেননি যা থাকা উচিত।’

মিয়ামিতে গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করেন বলেও জানান জেলেনস্কি। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গেও আলাদা বৈঠকে বসে। এই বৈঠকের ফলের ওপর ভিত্তি করেই কিয়েভ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাঝেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। জেলেনস্কি জানান, ২০২৬-২৭ সালে ৯০ বিলিয়ন ইউরো অর্থায়ন পাবে ইউক্রেন। যা ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনায় কিয়েভের অবস্থান আরও জোরালো করবে।

এদিন জেলেনস্কি ইউক্রেনের সম্ভাব্য নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘রুশ অধিকৃত এলাকায় নির্বাচন সম্ভব নয় এবং ইউক্রেনের নির্বাচন কবে ও কীভাবে হবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেই।’