হাঙ্গেরির সংসদ নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়েছেন দেশটির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। নির্বাচনের আংশিক ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, দেশটির টিসজা পার্টির পিটার মাগিয়ার বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। ফলে পিটারের ভূমিধস বিজয় মেনে নিজের পরাজয় স্বীকার করে নেন অরবান।
প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ১৯৯টি আসনের সংসদে ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৩৮ আসনে বিজয়ী হয়েছেন মাগিয়ারের মধ্য ডানপন্থি টিসজা পার্টি। বিপরীতে ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ৫৫ আসনে জয় পেয়েছে ভিক্টর অরবানের ফিদেসজ পার্টি।
রোববার (১২ এপ্রিল) সামাজিক মাধ্যমে মাগিয়ার লিখেন, প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান বিজয়ী হওয়ায় আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রাজধানী বুদাপেস্টের দানিয়ুব নদীর তীরে বিজয় ভাষণে পিটার মাগিয়ার বলেন, আজ রাতে মিথ্যার ওপর সত্যের জয় হয়েছে। আজ আমরা জিতেছি, কারণ হাঙ্গেরির মানুষ, দেশ তাদের জন্য কী করবে—সেই আশায় বসে থাকেননি; বরং নিজেরা দেশের জন্য কী করতে পারেন, সেই পথই বেছে নিয়েছেন। আপনারা সেই উত্তর খুঁজে পেয়েছেন এবং তা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।’
অন্যদিকে অরবান তার অনুসারীদের বলেন, এই ফল ‘বেদনাদায়ক’। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়েছি। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব ও সুযোগ এবার আমাদের দেওয়া হয়নি। আমরা বিরোধী দল হিসেবে দেশ ও জাতির সেবা করব।’
বুদাপেস্টভিত্তিক চিন্তক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ফেয়ার পলিটিক্যাল অ্যানালাইসিসের হাঙ্গেরীয় বিশ্লেষক গারগেলি রেজনাই আলজাজিরাকে বলেন, এটা হাঙ্গেরির জন্য বড় একটি পরিবর্তন। কারণ, গত ১৬ বছরে পার্লামেন্টে ফিদেসজের বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। এ জন্য অরবান নিজের ইচ্ছেমতো দেশ শাসন করতে পেরেছেন। এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
হাঙ্গেরির জাতীয় নির্বাচন দপ্তর জানায়, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়ার হার ছিল ৭৭–এর বেশি। হাঙ্গেরির কমিউনিস্ট–পরবর্তী যুগের ইতিহাসে যেকোনো নির্বাচনে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
অরবানের পরাজয় শুধু হাঙ্গেরি নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইউক্রেনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় প্রভাব ফেলবে। এর ফলে ইইউর অভ্যন্তরে হাঙ্গেরির ‘প্রতিপক্ষ সুলভ’ আচরণের ইতি ঘটতে পারে। ইউক্রেনের ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ পাওয়ার পথও সুগম হতে পারে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অরবান এ ঋণ আটকে দিয়েছিলেন।

