পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল এখনও ঘোষণা হয়নি, তবে তার আগেই নিজেদের বিজয় নিশ্চিত বলে দাবি করছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি। দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আগাম উদযাপনের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে আবির খেলায় মেতে উঠেছেন তারা, যদিও একইসঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতার ঘটনাও।
গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনের ৪৪ হাজারের বেশি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বুধবার দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনের ৪১ হাজারের বেশি বুথে ভোট হয়। দ্বিতীয় দফায় সহিংসতার মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এদিকে ভোট শেষে বেশ কয়েকটি বুথফেরত জরিপ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ভিন্ন ভিন্ন ফলাফলের আভাস মিলছে। কোনো জরিপে বিজেপির এগিয়ে থাকার কথা বলা হলেও অন্যগুলোতে তৃণমূলের সম্ভাব্য জয় দেখানো হয়েছে। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যেই শুরু হয়েছে আগাম বিজয় উদযাপন। উত্তরবঙ্গে বিজেপি সমর্থকরা গেরুয়া আবির নিয়ে উৎসব করেছেন, আর দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের সবুজ আবিরে মেতে উঠতে দেখা গেছে।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও উত্তেজনা কমেনি। বিভিন্ন জায়গা থেকে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যাদবপুর এলাকার পঞ্চসায়রে এক বিজেপি এজেন্টের বাড়ি ও অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে হলদিয়াতে তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। ভাঙর ও ব্যারাকপুর এলাকাতেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভাঙরে অভিযান চালিয়ে শতাধিক হাতবোমা উদ্ধার এবং ৬৫০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুই দফা মিলিয়ে এবার গড় ভোট পড়েছে প্রায় ৯২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এর মধ্যে প্রথম দফায় ছিল ৯৩ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় দফায় ৯২ দশমিক ৫৬ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। আগামী ৪ মে ফল প্রকাশের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির নির্বাচনের ভাগ্যও।
জরিপে মিলছে মিশ্র ইঙ্গিত
বুথফেরত জরিপগুলো বলছে, আসামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় থাকতে পারে। ১২৬ আসনের বিধানসভায় তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি দেখানো হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে আবারও সেই দায়িত্বে দেখা যাবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে কেরালায় ক্ষমতার পালাবদলের ইঙ্গিত মিলেছে, যেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট এগিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তামিলনাড়ুতে বেশিরভাগ জরিপে এম কে স্ট্যালিনএর নেতৃত্বাধীন ডিএমকে জোটের অবস্থান শক্তিশালী বলা হয়েছে। কিছু সমীক্ষায় নতুন দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগামকেও চমক দেখানোর সম্ভাবনায় রাখা হয়েছে।
পুদুচেরিতে বিজেপি ও এআইএনআরসি জোটের ফের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, ফল ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা দুই-ই তুঙ্গে রয়েছে।


