মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দিয়েছে ইরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তার বিনিময়ে এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক আলোচনাকে পরবর্তী ধাপে স্থগিত রাখার কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (২ মে) ইরানের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই মাস ধরে চলা নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।
এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পৃথক আলোচনার আগে উভয় পক্ষ—ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—আর কোনো সামরিক হামলা চালাবে না।
ভবিষ্যৎ আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচির বিধিনিষেধের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ইরান এই আলোচনায় শান্তিপূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যদিও বিষয়টি আপাতত স্থগিত থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, আস্থা তৈরির লক্ষ্যে এই কাঠামোটি ‘জটিল পারমাণবিক বিষয়গুলো’ সাময়িকভাবে পিছিয়ে রাখবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি ‘সন্তুষ্ট নন’, তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই সংঘাত ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় না করলে শেষ হওয়া উচিত নয়।
তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

