স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু চলতি বছরের গণভোট সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণভোট এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি অংশ নিয়ে ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেবে। এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে জনগণের রায় নিশ্চিত হবে। কিন্তু ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা রয়েছে। অনেকেই জানেন না বিষয়টি কী। আর তাই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনটাতে সিল মারবেন তা নিয়ে এখনো দ্বিধায় তারা। নির্বাচনের এখনো চার সপ্তাহ বাকি। এর মধ্যে যদি সরকার বা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রচার চালানো না হয় তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইতিহাস ম্লান হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। যদিও সরকার থেকে জানানো হয়েছে, গণভোট নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক প্রচার চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ৩০ মে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকাজের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য। ভোটের মাধ্যমে দেশের জনগণ জানান, রাষ্ট্রপতি এবং তার নীতি ও কর্মসূচির প্রতি তারা আস্থা রাখেন কি না। ১৯৭৭ সালের ২২ এপ্রিল গণভোটের ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান। দেশের ২১ হাজার ৬৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তখন দেশের মোট ভোটার ছিলেন ৩ কোটি ৮৪ লাখ। ফলে দেখা যায়, ৮৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পড়ে। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ, ‘না’ ভোট ছিল মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ। আর দ্বিতীয়বার হয়েছিল ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নীতি ও কর্মসূচির বৈধতা যাচাইয়ের জন্য ছিল এই গণভোট। আস্থা থাকলে জেনারেল এরশাদের ছবিসহ ‘হ্যাঁ’ বাক্সে এবং আস্থা না থাকলে ‘না’ বাক্সে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ভোটার অংশগ্রহণের হার ছিল ৭২ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছিল ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ‘না’ ভোট ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
তৃতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পদত্যাগের পর। তখন পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট সংসদে বিল পাস হয়। সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর ওই বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দেবেন কি না, তা নির্ধারণে ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটে অংশগ্রহণের হার ছিল ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে ৮৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংসদীয় প্রজাতন্ত্রকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ ভোটার ‘না’ ভোট দেন।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবারের গণভোট হচ্ছে জুলাই সনদ নিয়ে। জুলাই সনদ কী তা নিয়ে এখনো সাধারণ মানুষের বড় একটা অংশ জানে না। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গত অক্টোবরে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এই সনদে থাকা সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে হবে গণভোট। এই ৪৮ প্রস্তাবকে চারটি বিষয়ে ভাগ করে গণভোটের প্রশ্ন তৈরি করা হয়েছে। গণভোটের প্রশ্ন প্রকাশ করার পর থেকেই অনেকে বলে আসছেন, এই প্রশ্ন জটিল ও সাধারণ মানুষের জন্য দুর্বোধ্য। ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষের ধারণা নেই।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন থেকে বারবারই বলা হচ্ছে চলতি বছরের নির্বাচন ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ সংসদ ভোটের সঙ্গে সঙ্গে গণভোট। যা জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও এ বিষয়ে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ নেই। নির্বাচনের সামগ্রিক আলোচনা থেকে গণভোটের বিষয়টা যেন হারিয়ে গেছে। যে কয়দিন হাতে আছে এর মধ্যেই সরকার এবং ইসিকে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ক্ষেত্রে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে। লিফলেট, টেলিভিশনে এ বিষয়ে ডকুমেন্টারি প্রচারসহ মাঠপর্যায়ে লোক নিয়োগ করতে হবে যারা শুধু গণভোটের বাস্তবতা নিয়ে কাজ করবে। সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে সবাই অবগত। কীভাবে ভোট দিতে হয় তাও বেশির ভাগেরই জানা। কাকে দিতে হবে তাও ভোটাররা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। কিন্তু জুলাই সনদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে গণভোটের সব উদ্যোগ ভেস্তে যাবে বলে আমি মনে করি। তাই সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় আনার এবং গণভোটের পক্ষে জনমত তৈরির উদ্যোগ এখনই নিতে হবে।
ইসির তথ্যমতে, সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে ২১ জানুয়ারির পর। এর আগে সংসদ নির্বাচনের প্রচারে বাধা থাকলেও গণভোটের প্রচারে বাধা নেই। তবু রাজনৈতিক দলগুলোকে সেভাবে গণভোট নিয়ে প্রচার চালাতে দেখা যাচ্ছে না। সংস্কারের বিষয়ে একমত হলেও কিছু মৌলিক সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য আছে। বিশেষ করে কিছু সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে যেভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার সঙ্গে বিএনপির ভিন্নমত আছে। ফলে শেষ পর্যন্ত সব দল গণভোটের পক্ষে কতটা সরব হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে বলে মনে করেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীমও। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি কয়েকটি দল বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের অনেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বলছেন। অন্যদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ বিচ্ছিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘না’ ভোটের পক্ষে বলছেন। ফেসবুকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের গণভোটে ‘না’ বলার পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন অনেকে। এই দ্বিধা যদি না কাটে তাহলে এত আয়োজনের প্রয়োজন কী?
বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আপনারা ফেসবুকেই গণভোট সম্পর্কে নানা প্রতিক্রিয়া দেখতে পাচ্ছেন। তবে দলের অবস্থান সেটি নয়। সংস্কার আমাদের মজ্জাগত। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, চলতেই থাকবে। সেখানে ‘না’ বলার কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।
গত ৬ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে বলেছিল, নির্বাচনের সামগ্রিক আলোচনা থেকে গণভোটের বিষয়টা হারিয়ে গেছে। এখন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে গণভোটের বিষয়টি আলোচনায় আনার এবং গণভোটের পক্ষে জনমত তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে কিছু সংস্কারের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে যেভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার সঙ্গে বিএনপির ভিন্নমত আছে। ফলে শেষ পর্যন্ত সব দল গণভোটের পক্ষে কতটা সরব হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে।
তবে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ইসি কাজ করছে জানিয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এই আদেশ এবং এর তপশিলে সন্নিবেশিত জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত অংশ গণভোটে উপস্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে আমাদের লোকজন কাজ করছে। তিনি বলেন, গণভোটের ব্যালটে প্রশ্ন থাকবে ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর তপশিল-১ এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?’ ভোটারদের এই প্রশ্নের উত্তরে ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে নির্ধারিত বাক্সে প্রদান করতে হবে। যা নিয়ে ইতোমধ্যে মক ভোটিং হয়েছে। যদিও শুধু ঢাকায় এটি হয়েছে। তবে সারা দেশে বিভিন্ন উপায়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।
গত ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে এসব সংশোধনী বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত সংযোজিত থাকলেও চূড়ান্ত তপশিলে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হবে। একই সঙ্গে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদও গঠন করা হবে, যা সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে ‘গাঠনিক ক্ষমতা’ প্রয়োগ করার অধিকার রাখবে। কমিশন জানিয়েছে, বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটে যদি ইতিবাচক সম্মতি পাওয়া যায়, তাহলে সংবিধান সংস্কার বিলটি সংবিধান সংস্কার পরিষদকে তার দায়িত্ব পালনে সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ২৭০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যদি সংস্কার সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে গণভোটে অনুমোদিত সংবিধান সংস্কার বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে। অন্যদিকে কমিশনের আলোচনায় নেওয়া সংবিধানের ৪৮টি সংশোধনের মধ্যে কোনো একটি বিষয়ে যদি সমর্থন থাকে বা না থাকে, তবে গণভোটে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। আরেকটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারির মাধ্যমে গণভোটে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ব্যবস্থা থাকবে। তবে এক্ষেত্রে সংবিধান সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে ‘পূর্ণাঙ্গ খসড়া বিল’ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বাদ রাখা হয়েছে। ২৭০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতাও দ্বিতীয় বিকল্পে রাখা হয়েছে। ঐকমত্য কমিশন প্রণীত আদেশে গণভোট কীভাবে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন ও কার্যাবলি তুলে ধরা হয়েছে।
খসড়া আদেশে আরও বলা হয়েছে, ‘এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে যথোপযুক্ত সময়ে অথবা ওই নির্বাচনের দিন এই আদেশ অনুসারে গণভোট অনুষ্ঠান করা হবে। আদেশে বলা থাকবে, ‘জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে এই আদেশ এবং ইহার তপশিল-১ এ সন্নিবেশিত জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত অংশ গণভোটে উপস্থাপন করা হইবে। গণভোটে উপস্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে প্রদত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ইতিবাচক বা হ্যাঁ-সূচক হইলে এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হইবে, যাহা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গাঠনিক ক্ষমতা (কনস্টিটুয়েন্ট পাওয়ার) প্রয়োগ করিতে পারিবে। এ ছাড়াও উক্ত নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করিবেন।’ পরিষদ উহার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ২৭০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে এই আদেশের তপশিল-১ এ বর্ণিত জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করিবে এবং তাহা সম্পন্ন করিবার পর পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হইবে। জাতীয় সংসদের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ করবেন, এমন বিধান খসড়া আদেশে রেখেছে ঐকমত্য কমিশন। তাদের শপথবাক্যও নির্ধারণ করা হয়েছে আদেশের দ্বিতীয় তপশিলে।’
সংবিধান সংস্কারের মতো এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সচেতনতা বাড়াতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমেদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্দোলনে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এই অভ্যুত্থানে প্রাণ হারিয়েছেন হাজারো ছাত্র-জনতা। এর মহিমাকে জনমতে রূপান্তর দিতেই ‘জুলাই সনদ’। আর এই জুলাই সনদ যাতে জনগণের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে হয় তাই গণভোট। সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট সম্পর্কিত সচেতনতা বাড়াতে সব ধরনের কাজ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার। যেখানে ঘাটতি রয়েছে সেখানে আমরা বেশি করে কাজ করছি। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি মাঠপর্যায়েও প্রচার চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে সারা দেশে প্রচারর লক্ষ্যে গত ২২ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে ১০টি ভোটের গাড়ি সুপারক্যারাভান। এক্ষেত্রে সব সরকারি যোগাযোগ, যেমন- পত্র, আদেশ, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র ইত্যাদির ক্ষেত্রে গণভোটের লোগো ব্যবহার এবং সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে দুটি ব্যানার প্রতিষ্ঠান প্রধানের উদ্যোগে প্রিন্ট করে অফিসের সামনে টানাতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সারা দেশে ব্যানার, বিলবোর্ড, লিফলেট ও ফেস্টুন টানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় প্রচারের কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানোর জন্য আলাদা দলও গঠন করা হয়েছে। আশা করছি, নির্বাচনের আগেই সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যাবেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন