× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৬:৩১ এএম

রমজানের আগেই দ্রব্যমূল্যের ‘পাগলা গোড়া’ ছোটা শুরু

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৬:৩১ এএম

রমজানের আগেই দ্রব্যমূল্যের  ‘পাগলা গোড়া’ ছোটা শুরু

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনো এক মাস বাকি। এর আগেই ‘পাগলা গোড়ার’ মতো ছুটছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সরকারের তরফ থেকে দাম সহনীয় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো সুফল দেখা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে চাল, ডাল, চিনি, মুরগিসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আমন মৌসুমের নতুন চাল বাজারে আসতে শুরু করলেও পুরোনো চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। নতুন চাল বিআর-২৮, বিআর-২৯ ও পাইজাম কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও একই মানের পুরোনো চালের দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। মানভেদে মিনিকেট চালের দামও বেড়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭২ থেকে ৮৬ টাকায়, যা মাত্র ৮-১০ দিন আগেও ৪-৫ টাকা কম ছিল। বাজারে মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম ৩-৪ টাকা বেড়ে কেজি ৮৩-৮৪ টাকায় উঠেছে। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫ টাকা। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় এবং দামি মিনিকেট মোজাম্মেলের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫-৮৬ টাকায়।

নাজিরশাইল চালের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গেছে। ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল কেজি ৭২ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ৮-১০ দিন আগে ছিল ৭০ থেকে ৮২ টাকা। পাশাপাশি আমদানি করা নাজিরশাইলের দাম কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিক্রেতারা জানান, নতুন মৌসুমে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল চাল বাজারে এলেও সরবরাহ পুরোপুরি বাড়ার আগেই পুরোনো চালের দাম বেড়ে গেছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এবং রমজান মাসে চালের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

চালের পাশাপাশি রোজার মাসের আগে চিনি ও ডালজাতীয় পণ্যের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে চিনি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। কয়েক মাস স্থিতিশীল থাকার পর খোলা চিনির দাম একপর্যায়ে কেজি ৯০ টাকায় নেমেছিল। তবে দুই সপ্তাহ আগে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারে আবারও চিনির কেজি ১০০ টাকার ওপরে উঠে গেছে। বর্তমানে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১০০ টাকায় এবং প্যাকেট চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে।

কারওয়ান বাজারের রাফি স্টোরের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, পাইকারি পর্যায়ে চিনির বস্তায় (৫০ কেজি) ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছিল। এর প্রভাবে খুচরা বাজারে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। একইভাবে অ্যাংকর ডালের বস্তায় (২৫ কেজি) ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। এ কারণে খুচরায় কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে, ছোলার বাজার স্থিতিশীল দেখা গেছে। প্রতি কেজি কেনা যাচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।

ডালের বাজারেও বাড়তি চাপ দেখা যাচ্ছে। অ্যাংকর ডালের কেজি বর্তমানে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অর্থাৎ, এক সপ্তাহে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। পাশাপাশি ছোট দানার মসুর ডালের দাম বেড়ে কেজি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় উঠেছে। তবে মোটা দানার মসুর ডাল এখনো কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, কয়েক মাস ধরে সহনীয় পর্যায়ে থাকা মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি জাতের মুরগির দাম আরও বেশি প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দু-তিন দিন ধরে খোলা সয়াবিন তেলের কিছুটা টান রয়েছে। তবে দাম বাড়েনি। ভোজ্যতেল ও চিনির ব্যাপারে জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের জ্যেষ্ঠ সহকারী মহাব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার বলেন, গ্যাসের সংকটে কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান চিনির উৎপাদন কমিয়েছে। তবে বাজারে তাদের পণ্য দুটির নিয়মিত সরবরাহ রয়েছে বলে জানান তিনি।

গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া ডিমের দাম ফের কমেছে। ফার্মের বাদামি রঙের প্রতি ডজন ডিম কমবেশি ১১০ ও সাদা রঙের ডিমের ডজন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত কয়েক দিন শীতের তীব্রতার কারণে চাষিদের সবজি তুলতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। সে জন্য গত সপ্তাহে বেশ কিছু সবজির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে ফের কমে আগের অবস্থানে এসেছে। পর্যাপ্ত জোগান থাকায় বেশির ভাগ সবজির কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। গতকাল প্রতি কেজি নতুন আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, শিম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বরাবরের মতো দামি সবজির তালিকায় রয়েছে বরবটি। প্রতি কেজি কিনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। আর মানভেদে টমেটোর কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে ফুলকপির দাম পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ৪০ থেকে ৫০ এবং বাঁধাকপি প্রতিটি ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একইভাবে কিছুটা বেড়ে মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে। এ ছাড়া মাছের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!