ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভের মাধ্যমে সরকার গঠনের পথে বিএনপি। বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান কাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এবং বিকেল চারটায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। নতুন সরকারকে ঘিরে প্রত্যাশার বারুদে জ্বলছে পুঁজিবাজার। গতকাল রোববার পুঁজিবাজারে এমন প্রতিফলন দেখা গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে গতকাল দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন এবং সূচকে ব্যাপক উত্থান দেখা গেছে।
সরকার গঠনের আগে পুঁজিবাজারের এই উত্থানকে ‘বিএনপির কমিটমেন্টের প্রতিফলন’ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। ‘অনির্বাচিত সরকার থাকায় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে বিরত ছিল- এখন সেই স্থবিরতা কেটে যাবে’ বলে মনে করছেন পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক কোন কোন নেতা থাকছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসায় নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন শেয়ারবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারই প্রতিফলন হিসেবে নির্বাচনের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ২০০ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকার। অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা সম্পর্কে বিনিয়োগকারী ওহিদুর রহমান রিপন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিএনপির আমলে স্টক মার্কেট ভালো থাকে। সেই বিশ্বাসের প্রথম প্রতিফলন এটা।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্টক মার্কেটের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বিএনপির বিশেষত আমীর খসরু মাহমুদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান সাহেবও বলেছিলেন, পুঁজিবাজারের জন্য ভালো কিছু করবেন। তারই প্রতিফলন পড়েছে।’
ডিএসইতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০১ কোটি টাকা লেনদেন হয়। নির্বাচন শেষে গতকাল রোববার সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। যে উত্থানকে নতুন সরকারের পদধ্বনি বলে মনে করছেন তারা।
দেশের শীর্ষ একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘অনির্বাচিত সরকার থাকায় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে বিরত ছিলেন, এখন সেই স্থবিরতা কেটে যাবে। নির্বাচিত সরকারের কারণে অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বিএনপি সরকার গঠন করছে, বাজারে তারই প্রভাব পড়েছে।’
ডিএসইতে সকাল থেকেই লেনদেনে গতি দেখা গেছে। দিন শেষে দেখা যায়, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে গতকাল ১ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৬০০ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট। আগের কর্মদিবসের তুলনায় সূচকটি বেড়েছে ২০০ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। দ্বিতীয় সূচক ডিএসইএস বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১২৭ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট।
পুঁজিবাজারের উত্থান সম্পর্কে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই শেয়ারবাজার নিয়ে কমিটমেন্ট করেছে। কমিটমেন্ট যদি ধরে রাখে, তাহলে অবশ্যই আমরা একটি ভালো শেয়ারবাজার পাব।’
‘বাজার ভালো রিটার্ন দিলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটোমেটিক বেড়ে যাবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় শেয়ারবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন দ্রুত কিছু ভালো কোম্পানির আইপিও আনার ব্যবস্থা করতে হবে’Ñ বলেন সাইফুল ইসলাম।
বিনিয়োগকারী আস্থা এবং বিনিয়োগ সম্পর্কে ফার্স্ট ক্যাপিটাল সিকিউরিটি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মোহাম্মদ কাওসার আল মামুন বলেন, ‘প্রথমে ধারণা ছিল নির্বাচন সঠিকভাবে হয় কি না, এখন নির্বাচন শেষে মানুষের মনে আস্থা ফিরেছে। এত দিন মার্কেটে ইনভেস্ট থেকে যারা বিরত ছিলেন; নির্বাচন হওয়ায় এখন তারা নিশ্চয়তা পেয়েছেন। মানুষের মাঝে আস্থা ফিরেছে। যার কারণে মার্কেটে লেনদেনের গতিও বেড়েছে। তবে সব মিলে মার্কেটে ভালো একটি বাইব্রেশন থাকবে।’
তবে যথাসম্ভব দ্রুত ভালো কোম্পানির আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) বাজারে আনা দরকার। তাহলে বাজারে তারল্যসংকট কমবেÑ বলেন তিনি।
গতকাল ডিএসইতে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধিতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওয়ান ব্যাংক, মুন্নু ফেব্রিকস, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, এশিয়া ইনস্যুরেন্স ও ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স লিমিটেড।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন