× UCB Sticker Card
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

হীরেশ ভট্টাচার্য হিরো, মাধবপুর

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৬:১৮ এএম

হবিগঞ্জের মাধবপুর

পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে চিকিৎসা

হীরেশ ভট্টাচার্য হিরো, মাধবপুর

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৬:১৮ এএম

পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে চিকিৎসা

ভবনের ছাদ ও দেয়াল ফেটে ভেতরের জং ধরা রড বেরিয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে রোগীদের শয্যা ভিজে যায়। রাতের আঁধারে খসে পড়ছে পলেস্তারা। সরকারিভাবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনটিকে ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করলেও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই পুরোনো দ্বিতল ভবনেই অবলীলায় চলছে জরুরি বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ ওয়ার্ডের চিকিৎসা কার্যক্রম। ফলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ভবনধসের চরম আতঙ্ক আর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ভর্তি থাকা রোগী, তাদের স্বজন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসাকর্মীরা। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, জীবন বাঁচাতে হাসপাতালের এক কর্মচারীকে মাথায় হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়া এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ড এখনো পুরোনো ভবনেই পরিচালিত হচ্ছে। ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রতিনিয়ত পলেস্তারা খসে পড়ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন রহিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখানে এসে চিকিৎসার চেয়ে দুর্ঘটনার ভয়ই বেশি কাজ করে। রাতে পলেস্তারা খসে পড়ার বিকট শব্দে আতঙ্কে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়।

রাতের শিফটে ডিউটি করার সময় ছাদ ধসে পড়ার ভয়ে সব সময় তটস্থ থাকতে হয় বলে জানান কর্মরত এক নার্স। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা ঝুঁকি জেনেও বাধ্য হয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছি। যে কোনো সময় বড় বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অবকাঠামো ও শয্যা বাড়ানো হলেও পুরো সেবা এখনো নতুন ভবনে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পুরোনো ভবনের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে ৩১টি এবং নতুন ভবনের শিশু ওয়ার্ডে ১৯টি শয্যা চালু রয়েছে। নতুন ভবনে চিকিৎসকদের কক্ষ, টিকাদান কেন্দ্র ও অপারেশন থিয়েটার স্থান পেয়েছে। তবে স্থানের অভাব, জনবলের সংকট ও প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে জরুরি বিভাগ, এক্স-রে বিভাগ ও সাধারণ ওয়ার্ডগুলো এই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই রয়ে গেছে।

এদিকে ভৌগোলিক ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এই হাসপাতালের ওপর শুধু মাধবপুরের মানুষই নয়, পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও বিজয়নগর উপজেলার বড় একটি জনগোষ্ঠীও নির্ভরশীল। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় ২৬ কিলোমিটার অংশ এই উপজেলার ওপর দিয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার শিকার রোগীরা এখানে জরুরি চিকিৎসার জন্য আসে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি থাকে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে শিল্পকারখানা ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় এখানে একটি ট্রমা সেন্টার স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

অথচ বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য নেই পর্যাপ্ত জনবল। হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। অর্থাৎ, ২৬টি চিকিৎসকের পদই শূন্য। ৩০ জন নার্সের বিপরীতে আছেন ২৬ জন। আর ১৫ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর স্থলে আছেন মাত্র ৫ জন, যার মধ্যে আবার একজনকে ডেপুটেশনে অন্য জায়গায় পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী মানুষের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে অনতিবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে সব কার্যক্রম সরিয়ে নতুন ভবনে নেওয়া হোক এবং শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া হোক।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমরুল হাসান ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘পুরোনো ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এটিকে ইতিমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। মূলত বাজেট সংকটের কারণে বিকল্প ব্যবস্থা বা নতুন কাজ শুরু করা যায়নি। তবে আশা করছি, জুনের পর অর্থবছর এলে মেরামতের কাজ শুরু হতে পারে।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!