× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৬:০০ এএম

সম্পাদকীয়

বাজেট ২০২৬-২৭; সংকটের ছায়ায় সম্ভাবনার হিসাব

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৬:০০ এএম

বাজেট ২০২৬-২৭; সংকটের ছায়ায় সম্ভাবনার হিসাব

দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল নীতি বাস্তবায়ন, আর্থিক খাতের অনিয়ম এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার অভিঘাতে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট, রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, সব মিলিয়ে অর্থনীতির সামনে সৃষ্টি হয়েছে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ। এমন এক বাস্তবতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাজেটের আকার বড় হলেই কি অর্থনীতির সমস্যার সমাধান হবে?

নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট হিসেবে এটি নিঃসন্দেহে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে এই বাজেট হবে সরকারের সক্ষমতার প্রথম বড় পরীক্ষা। সরকার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গত কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার সব প্রচেষ্টাই প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। বরং জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

বাজেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর বিশাল ঘাটতি। প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে ঘাটতি বাজেট অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু যখন রাজস্ব আহরণ ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যমাত্রার নিচে থাকে, তখন অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঋণের সুদ পরিশোধেই যদি বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হয়, তাহলে উন্নয়ন ও সামাজিক খাতে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রেও সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চলতি অর্থবছরেই এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এমন অবস্থায় আগামী অর্থবছরে আরও উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিশেষত ছোট ব্যবসায়ী ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা একদিকে রাজস্ব বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, অন্যদিকে এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে ফিরে আসার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। করব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত করের ভিত্তি সম্প্রসারণ, কিন্তু তা যেন জনজীবনে নতুন চাপ সৃষ্টি না করে।

এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ইতিবাচক দিক। বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে প্রয়োজনীয়। তবে সামাজিক সুরক্ষা কখনোই টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিকল্প হতে পারে না।

উন্নয়ন ব্যয়ের রেকর্ড পরিকল্পনাও একইভাবে সম্ভাবনা ও ঝুঁকির মিশ্র বার্তা বহন করছে। বড় এডিপি ঘোষণা করা সহজ, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন, সময়মতো কাজ শেষ করা এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই প্রকৃত চ্যালেঞ্জ। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, সময়ক্ষেপণ এবং অপচয় বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকা-ের বড় দুর্বলতা। তাই বরাদ্দের পরিমাণ নয়, বরং অর্থের কার্যকর ব্যবহারই হওয়া উচিত সরকারের প্রধান মনোযোগ।

অর্থনীতির বর্তমান সংকট মোকাবিলায় এই বাজেটকে অনেকেই একটি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা হিসেবে দেখছেন। কিন্তু বাজেট কোনো জাদুকাঠি নয়।

সুতরাং এবারের বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে এর ঘোষিত অঙ্ক বা উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রার ওপর নয়, বরং বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর। অর্থনীতিকে খাদ থেকে টেনে তোলার জন্য সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো আস্থা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগকারীর আস্থা, ব্যবসায়ীর আস্থা এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের আস্থা। বাজেটের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে তখনই, যখন তার সুফল জনগণের জীবনমানের উন্নতিতে প্রতিফলিত হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!