× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

 মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৬:১২ এএম

স্টেডিয়ামের বাইরে উত্তর আমেরিকা

 মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৬:১২ এএম

স্টেডিয়ামের বাইরে উত্তর আমেরিকা

সবুজ গালিচার ৯০ মিনিটের তীব্র উত্তেজনা, মগজ যুদ্ধ ও গ্যালারির গগনবিদারি চিৎকার; ফুটবল বিশ্বকাপের চেনা অবয়ব বলতে আমরা সাধারণত এটুকুই বুঝি। তবে এবারের বিশ্বকাপ এই চেনা সীমানা ভেঙে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। এই বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রূপ নিয়েছে ইতিহাসের বৃহত্তম লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও পর্যটন উৎসবে। আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এনেছে ফুটবল ট্যুরিজম-এর সুযোগ। স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিটের বাইরেও যে এক বিশাল, বৈচিত্র্যময় এবং রোমাঞ্চকর পৃথিবী দর্শক-সমর্থকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, তা এই মহাদেশীয় উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে মাঠের ভেতরের লড়াইয়ের সমান্তরালে মাঠের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে জার্সির ফ্যাশন ও টেকসই প্রযুক্তির এক নতুন জোয়ার।

সিয়াটল থেকে মেক্সিকো সিটি

উত্তর আমেরিকার এই ত্রিদেশীয় আয়োজনের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো এর ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। খেলা দেখতে আসা লাখো পর্যটকের জন্য প্রতিটি শহর যেন একেকটি নতুন ক্যানভাস। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমের শহর সিয়াটলের কথা বলা যায়। লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়ামে খেলা দেখার পাশাপাশি দর্শকেরা মেতে উঠছেন ওল্ড-গ্রোথ বনের সবুজে, মাউন্ট রেনিয়ারের বরফশীতল চূড়া দর্শনে কিংবা ডেল্টা অববাহিকায় প্রশান্ত মহাসাগরের লোনা বাতাসের স্বাদ নিতে। সিয়াটলের এই প্রাকৃতিক রূপ রুপালি পর্দার চেয়েও মায়াবী।

প্রকৃতির এই শান্ত স্নিগ্ধ রূপ থেকে পর্যটকেরা যখন নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের আঙিনায় পা রাখবেন, তখন দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যাবে। টাইমস স্কয়ারের আকাশছোঁয়া নিয়ন আলো, ব্রডওয়ের বিশ্ববি খ্যাত থিয়েটার আর ম্যানহাটনের করপোরেট আভিজাত্য দর্শকদের এক আধুনিক নগরসভ্যতার মুখোমুখি দাঁড় করাবে। আবার চেনা আধুনিকতা কর্পূরের মতো উবে যাবে, যখন পর্যটকদের কাফেলা গিয়ে থামবে মেক্সিকো সিটিতে। প্রাচীন আজটেক সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ, ফ্রিদা কাহলোর শিল্পকর্ম আর শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে থাকা চেনা-অচেনা সুবাস দর্শকদের এক জাদুকরী অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।

স্বাদ ও সুবাসের মহোৎসব

ফুটবল ট্যুরিজমের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো গ্যাস্ট্রোনমি বা স্থানীয় খাবার সংস্কৃতি। উত্তর আমেরিকার এই তিন দেশের রসনাবিলাস ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্বর্গীয় অভিজ্ঞতা। মেক্সিকো সিটির রাস্তার ধারের ঐতিহ্যবাহী ট্যাকো আল পাস্তোর, ঝাল-মিষ্টির অদ্ভুত মিশ্রণের মোলে সস কিংবা তাজা কর্ন টরটিয়া দর্শকদের জিভে জল এনে দেবে। মেক্সিকান খাবারে ব্যবহৃত লঙ্কা আর মশলার তীব্রতা ফুটবলীয় উন্মাদনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিবে। অন্যদিকে, কানাডার ভ্যাঙ্কুভার বা টরন্টোতে খেলা দেখতে যাওয়া দর্শকেরা পরিচিত হবেন ঐতিহ্যবাহী পাউটিন-এর সঙ্গে। ক্রিসপি ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের ওপর গলানো চিজ কার্ড এবং গরম গ্রেভির যুগলবন্দি লাতিন বা ইউরোপীয় দর্শকদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন এক স্বাদ। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যুগুলোতে স্টেডিয়ামের বাইরে উন্মুক্ত স্থানে গাড়ি পার্ক করে বারবিকিউ করার যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা ফুটবলপ্রেমীদের এক সুতোয় বেঁধে ফেলবে। ধোঁয়া ওঠা বারবিকিউ রিবস, বার্গার ও স্থানীয় খাবারে স্বাদে দর্শকেরা ভুলে যাবেন জাত-পাত আর ভাষার ব্যবধান।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!