× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৬:২৪ এএম

হরিতলায় সিলিকা বালুর হরিলুট

বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৬:২৪ এএম

হরিতলায় সিলিকা বালুর হরিলুট

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার হরিতলার ধুলিয়াছড়ায় প্রকাশ্যেই চলছে কোটি টাকার সিলিকা বালু লুটপাট। নিয়মিত অভিযান, জরিমানা সত্ত্বেও কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না পরিস্থিতি। দিন-রাত অবাধে ড্রেজার বসিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে মূল্যবান এ খনিজ সম্পদ।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনের বেলায় বড় বড় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর রাতের আঁধারে ট্রাক্টরযোগে বালুর স্তূপ করে রাখা হচ্ছে উপজেলার মহাসড়কের পাশঘেঁষা বিভিন্ন পয়েন্টে। পরে ভোরবেলা ভেকু দিয়ে এসব বালু ড্রাম ট্রাকে তুলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। এভাবে অবৈধ উত্তোলনের কারণে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। একই সঙ্গে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও জৈববৈচিত্র্য। বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি। অনেকের ঘরবাড়ি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলে এলাকার সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাতভর ট্রাক্টরের বিকট শব্দে অসুস্থ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। সিন্ডিকেটের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী যে, ভুক্তভোগীরা মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না। প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে প্রাণনাশের হুমকি ও নির্যাতন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় যোগদানের পর থেকে ১৫টি মামলায় ২২ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এরপরও বন্ধ করা যাচ্ছে না অবৈধ বালু উত্তোলন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের কিছু প্রভাবশালী নেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের ছত্রছায়ায় স্থানীয় কিছু ব্যক্তি নিয়মিত এ অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

হরিতলা এলাকার বাসিন্দা সিরাজ আলী অভিযোগ করে বলেন, হরিতলা গ্রামের কমর উদ্দিন, নাবিল মিয়া ও সোহেল মিয়া স্থানীয় তাউছ মিয়ার নেতৃত্বে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন করছেন। এতে তার বসতবাড়ি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বালুখেকোদের হাত থেকে বাড়ি রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিলে তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ভুক্তভোগী জানান, কপিল উদ্দিনসহ আরও ৪-৫ জনের নেতৃত্বে বালু উত্তোলনের কারণে তার বাড়ির ১০-১৫টি গাছ ইতোমধ্যে ধসে পড়েছে।

এলাকায় আরও গুঞ্জন রয়েছে, রাতের বেলায় বালু পাচার নির্বিঘœ রাখতে বাহুবল মডেল থানার টহল দায়িত্বে থাকা কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করেই এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো সদস্য এ ধরনের কর্মকা-ে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘আমি যোগদানের পর ১৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি এবং দুজনকে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। তারপরও বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। জনবল সংকট থাকলেও আমরা নিয়মিত অভিযান চালানোর চেষ্টা করছি।’

বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় উপজেলা প্রশাসনকে আমরা সবসময় সহযোগিতা করি। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে যেকোনো অভিযানে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।’ স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সিলিকা বালুর এ হরিলুট বন্ধ না করা হলে পরিবেশ, জনজীবন ও বসতভিটায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!