রাজধানীর কাফরুলে মাদক কারবারে বাধা দেওয়ার জেরে মোটরসাইকেল আরোহী রাফির মাথায় ইট নিক্ষেপের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং র্যাব সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এই হামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে, হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. পারভেজ, আনোয়ার হোসেন বাবু ও মো. ফয়সাল ওরফে কালু। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার এসআই হাসিবুর রহমান তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মো. ওয়াজেদ আলী জানিয়েছেন, তিন আসামির মধ্যে পারভেজ ও বাবুর পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। তবে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। কালুর পক্ষে জামিন আবেদন ছিল না। পরে আদালত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মো. পারভেজকে এবং ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে বাবুকে গ্রেপ্তার করে কাফরুল থানা পুলিশ। এ ছাড়া কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪এর সদস্যরা।
গতকাল শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে কাফরুল থানাধীন পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে ইব্রাহিমপুর পাকা সড়কে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে ভুক্তভোগী পূর্বপরিকল্পিত হামলার শিকার হন। দুর্বৃত্তরা পূর্বশত্রুতার কারণে তার মাথায় সজোরে ইট নিক্ষেপ করে, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান। হামলার পর হামলাকারীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দ্রুত রাফিকে একটি অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় রাফির চাচা নুর হোসেন কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, মামলার পর ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ জনকে শনাক্ত করা হয়। গত বৃহস্পতিবার কাফরুল থানার একটি দল ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে রাজধানীর ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার পারভেজ একসময় রাফির বাসায় ভাড়াটিয়া ছিলেন এবং তাদের মধ্যে পরিচয় ছিল। পরবর্তী সময়ে পারভেজ ও তার সহযোগীরা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে রাফি তাতে বাধা দেন। ঘটনার আগে রাফির সঙ্গে পারভেজ ও কালুর কথাকাটাকাটি হয় এবং তারা রাফিকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামলার রাতে পারভেজ, কালু, বাবু ও আমিন পূর্ব শেওড়াপাড়ায় অবস্থান নেয়। রাফি যখন মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছায়, তখন আমিন তার গতিরোধের চেষ্টা করে এবং পারভেজ ইট নিক্ষেপ করে।
ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, ঘটনার পর আসামিরা পুরো বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। তারা আশপাশের লোকজনকে বিভ্রান্ত করতে বলে যে, উপর থেকে ইট পড়ে রাফি আহত হয়েছেন। পরে তারা রাফিকে অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে ফেলে পালিয়ে যান। প্রধান অভিযুক্ত পারভেজ ও পলাতক ফয়সাল ওরফে কালুর বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে র্যাব বলছে, তিনি কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকায় পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে রাফির মাথার ডান পাশে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় পড়ে যান। আসামি গ্রেপ্তারের পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব বলেছে, ব্যবসা নিয়ে মোটরসাইকেলচালক রাফির সঙ্গে হামলাকারীদের বিরোধ ছিল। কয়েকদিন আগেও এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনার দিন রাফি একা বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় কালু ও পারভেজসহ তার সহযোগীরা আড্ডা দিচ্ছিল। রাফিকে একা দেখে তারা আটকাতে যায়। কালু তাকে আটকাতে ব্যর্থ হলে একটু সামনে অবস্থান করা পারভেজ বড় ইটের টুকরা দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে বাইকচালক পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন