× UCB Sticker Card
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. আব্দুর রহিম

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৪:৫০ এএম

অর্থের খোঁজে সরকার

মো. আব্দুর রহিম

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৪:৫০ এএম

অর্থের খোঁজে সরকার

সরকারের তহবিলে ‘হাত খুলে’ খরচের টাকা নেই। ধারকর্জই যেন বড় ভরসা। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছেও চাওয়া হয়েছে ঋণের টাকা। এরই মধ্যে ব্যাংক থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়ে গেছে। কাক্সিক্ষত রাজস্ব আয়ও নেই। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দশ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রেকর্ড ঘাটতি ১ লাখ কোটি ছাড়িয়েছে। বছর শেষে হিসাব করলে তা আরও ত্রিশ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই বাস্তবতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে আদায় করতে হবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা আয়ের মধ্যে ৮৬ দশমিক ৯০ শতাংশ আদায় করতে হবে এনবিআরকে। অর্থনৈতিক এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বড়দের ছাড় দিয়ে ছোটদের করজালে এনে এই আয়ের পরিকল্পনা করেছেন। এনবিআরের মাধ্যমে এই রাজস্ব আয় প্রায় অসম্ভব বলেও জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেটের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থমন্ত্রী এনবিআরের ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য মোটা দাগে ৬টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। সংস্থাটির ছয়টি বিষয়ে ভর করে ৬ লাখ কোটি টাকার বৈতরণী পার হতে চান অর্থমন্ত্রী। প্রথমেই রাজস্ব বাড়ানোর জন্য এনবিআরের কর নীতি এবং বাস্তবায়ন আলাদা করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে আয়কর ই-রিটার্ন এবং ভ্যাট ই-রিটার্ন চালু করা হবে। যদিও এনবিআর চলতি অর্থবছর থেকে আয়করে ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়। ই-রিটার্ন চালুর মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে মাত্র ৫০ লাখ রিটার্ন দাখিল করেন। এই রিটার্নের মধ্যে বেশ শূন্য রিটার্ন রয়েছে। যেখান থেকে এনবিআর কোনো ধরনের কর পায়নি। তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উৎসে কর যাচাইয়ের মাধ্যমে সময় কমিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা কষেছেন অর্থমন্ত্রী। যদিও বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আরেকটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে জনবান্ধব কর প্রশাসন গড়ে তোলার মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। জনবান্ধব কর প্রশাসনের বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ করদাতার মধ্যে বেশ আলোচনা রয়েছে। ব্যবসায়ীরাও বলছেন, তৃণমূল পর্যায়ে কর আদায় করতে জনবান্ধব কর প্রশাসনের বিকল্প নেই। কর কর্মকর্তাদের নিয়ে যে ভীতি, তা দূর করতে হবে।

প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, কাস্টমের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন এবং রপ্তানির সম্ভাবনাময় খাতকে শুল্কমুক্ত ব্যবস্থায় উপকরণ আমদানি সুবিধার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। যদিও বর্তমান বাস্তবতায় কাস্টমের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন তৈরি হতে বেশ সময়ও লাগতে পারে। অটোমেশন পরিপূর্ণ না করেই চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা থেকে আরও বাড়িয়ে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন অর্থবছরে উৎসে করের বেশকিছু জায়গায় কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ভ্যাটের আওতা বাড়ালেও আগামী অর্থবছরে ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটির ঘরে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী সারা দেশের ক্ষুদ্র ও খুচরা বিক্রেতা থেকে হাজারপ্রতি দুই টাকা করে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। যদিও সব উদ্যোগ মিলিয়ে নতুন অর্থবছরে ৩৮ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি আদায়ের পরিকল্পনা নিচ্ছে এনবিআর। কিছু ক্ষেত্রে করকে উৎসে করসহ কিছু কৌশলী কর নির্ধারণের কৌশল নিয়েছে সংস্থাটি। তবু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন খুবই কঠিন বলেও জানিয়েছেন খোদ এনবিআর কর্মকর্তারা।

বাজেট বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, আগামী অর্থবছরে করের হার নয়, করের আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে করছাড় পেয়েছেন প্রায় সবাই, তবে করের আওতায় বেশি পড়েছেন ছোটরাই। বাজেটের ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ কর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে করের আওতা বাড়াতে খুচরা বিক্রেতাদের কর ব্যবস্থার আওতায় আনতে পণ্য সরবরাহের সময় ০.২০ শতাংশ অগ্রিম কর কেটে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি এক হাজারে ২ টাকা কর দিতে হবে। হারটি খুবই কম হলেও এর মাধ্যমে খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাকে করের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যাবসায়িক ব্যাংক হিসাবের জন্য ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর (বিন নিবন্ধন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫০ সিসি বা তার বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও টিআইএন প্রয়োজন হবে। আবার বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব, ইউটিলিটি সেবা ও সম্পত্তির তথ্যকে একটি সমন্বিত ডেটাবেজে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে জনবান্ধব কর প্রশাসনের বিকল্প নেই বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছর থেকে আকার বাড়িয়ে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে এনবিআরের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেশি। এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের প্রাচীন ব্যবসায়ী সংগঠন এমসিসিআই। সংগঠনটি বলেছে, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত এনবিআর সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে এনবিআর। এ অবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া নতুন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। সংগঠনটির আশঙ্কা, রাজস্ব আদায়ে চাপ বাড়লে করদাতারা হয়রানির শিকার হতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে। এর বাইরে গবেষণা সংস্থাগুলোও রাজস্ব আহরণ সম্ভব নয় বলেও অভিমত দিয়েছেন। যদিও বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাজেটে করের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্রমেই বাড়ছে সরকারের ঋণের বোঝা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায়। এর পরবর্তী অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ২৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা হবে এবং তিন বছর পর অর্থাৎ ২০২৮-২৯ অর্থবছর শেষে এ ঋণ স্থিতি দাঁড়াবে ৩৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। এ বিশাল ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎসের অবদান থাকবে ১৮ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। ঋণের এ উল্লম্ফন স্বাভাবিকভাবেই সুদ পরিশোধের ব্যয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারকে সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৬২ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ বাজেটের একটি বড় অংশই চলে যাবে বিগত বছরগুলোর ঋণের মাশুল গুনতে, যা উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের বরাদ্দকে করবে সংকুচিত। সরকারের এ ঋণ বৃদ্ধির মূল কারণ রাজস্ব আয়ের শ্লথগতি। গত পাঁচ অর্থবছরে যেখানে রাজস্ব আয় বেড়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ, সেখানে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪২ শতাংশ। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, করের টাকায় সরকারের পুরো পরিচালন ব্যয় মেটানো তো দূরের কথা, বেতন-ভাতা, পেনশন ও সুদের টাকা পরিশোধের পর কৃচ্ছ্রসাধন করেও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ফলে সরকার বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অর্থনীতির পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’। সরকার যখন নিজের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়, তখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে ঋণ দিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে মন্থর করে দেয়।

সরকারি ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক অর্থ সচিব ও মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আয়ে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন ঘটানোর মতো কোনো বড় প্রশাসনিক সংস্কার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বাজেট ঘাটতি অব্যাহত থাকবে এবং সে ঘাটতি পূরণে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতেই হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ঋণ ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে কি না। যদি ঋণ করে ঘি না খাওয়া হয়, ঋণের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্প থেকে রিটার্ন নিশ্চিত করা যায় এবং এ ঋণের কারণে যদি বেসরকারি খাত ঋণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় তাহলে এটি সম্ভব।’ কেবল অভ্যন্তরীণ উৎসই নয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অতীতে নেওয়া অনেক মেগা প্রকল্পের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা রেয়াতকাল শেষ হয়ে আসায় এখন মূল ও সুদÑ দুই-ই একসঙ্গে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন। যেহেতু বাংলাদেশে বাস্তবায়িত অধিকাংশ অবকাঠামো প্রকল্প স্থানীয় মুদ্রায় আয় করে, তাই ডলারের দাম বাড়ার কারণে ঋণ পরিশোধের প্রকৃত বোঝা প্রাক্কলনের চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে। আগামী তিন অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের যে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে তাতে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৪২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার ও ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৪২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ঋণ পরিশোধ করতে হবে সরকারকে। এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা যাতে একটা ঋণ ফাঁদের মধ্যে না পড়ি, এটা মূল টার্গেট হতে হবে এই সরকারের। বোঝলাম যে এখন তাদের জ্বালানিসহ বিভিন্ন কারণে ঋণ নিতে হচ্ছে। বিভিন্ন কিছু সামাল দিতে হচ্ছে। তাদের ইলেকশনে দেওয়া আশ্বাস যেগুলো আছে, সেগুলো বাস্তবায়নে তাদের একটা বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে সম্পদ আহরণ, রাজস্ব কীভাবে আমরা বৃদ্ধি করতে পারি, সেদিকে।’ বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রদান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের চাহিদা বাড়লেও শুধু ঋণ নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্য ব্যালান্স অব পেমেন্টসহ সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর কোথায় কী চাপ তৈরি হচ্ছে, তার স্পষ্ট মূল্যায়ন জরুরি। তিনি জানান, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় কমা ও রেমিট্যান্স ঝুঁকির কারণে চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে রাজস্ব ঘাটতি, ভর্তুকি বৃদ্ধি ও সামাজিক ব্যয়ও বাড়বে। এসব মোকাবিলায় সমন্বিত সংকট ব্যবস্থাপনা, সংস্কার অব্যাহত রাখা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!