× UCB Sticker Card
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৫:০০ এএম

এআইয়ের যুগে দেশ

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৫:০০ এএম

এআইয়ের যুগে দেশ

রাজধানীর গুলশান-১ নম্বর গোলচত্বর। সরকারি শেষ কর্মদিবস ছিল গত বৃহস্পতিবার। আশপাশে কোনো ট্রাফিক পুলিশ না থাকলেও পুলিশ প্লাজা থেকে গুলশান-২ গামী সব ধরনের যানবাহন থেমে আছে। অপর পারের চিত্রও একই; গুলশান-২ থেকে আসা পুলিশ প্লাজা বা হাতিরঝিলগামী সব গাড়ি দাঁড়িয়ে ওপরে তাকিয়ে আছেন চালকেরা। গুনছেন অপেক্ষার প্রহর। মাঝখান থেকে চলাচল করছে মহাখালী থেকে বাড্ডাগামী যানবাহনগুলো। ওপরের সিগন্যালে লাল বাতি সবুজ হওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকারা সিগন্যাল বাতির সঙ্গে সঙ্গে গুনছেন ৬৯, ৬৮, ৬৭...। রাজধানীবাসীর জন্য এ দৃশ্য এত দিন শুধু ক্যান্টনমেন্ট এলাকাগুলোতে দেখা মিললেও এবার অন্তত প্রধান ৩০টি সড়কের চিত্রই এরকম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রিত এসব সিগন্যাল বাতি কেউ না মানলে অটোমেটিক মামলার নোটিশ চলে যাচ্ছে গাড়ির নিবন্ধিত ঠিকানায়। প্রাথমিকভাবে ১০৫টি ক্যামেরা দিয়ে এ কার্যক্রম চললেও একে একে রাজধানীর সব সড়কই নিয়ন্ত্রণ করবে এআই।

শুধু সড়ক নয়, এআইয়ের মাধ্যমে বদলে যাচ্ছে চিকিৎসাসেবার কার্যক্রমও। জাতীয়ভাবে হচ্ছে ই-প্রেসক্রিপশন। এতে করে ঘুষ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধের নাম নয়, বরং জেনেরিক নাম লিখতে বাধ্য হবেন চিকিৎসকেরা। সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই আর থাকবে না নগদ লেনদেনের সুযোগ। ফলে চিকিৎসকদের গোপন আয়ের কোনো উৎস থাকারও সুযোগ থাকছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একইভাবে আর কদিন পরই উৎপাদনে যাবে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর আগেই পুরো বিদ্যুৎ খাতকে এআই-নির্ভর করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। ইতোমধ্যে স্মার্ট গ্রিডের পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতের কোনো বিভাগেই আর থাকছে না কাগুজে কোনো নোটিশ। এমনকি আবহাওয়ার গতিবিধি নির্ধারণেও ব্যবহৃত হবে এআই। এর ফলে কিছু মানুষের কাজ কমে বেকারত্ব তৈরি হলেও উন্নত দেশের অগ্রযাত্রায় এসব বিষয়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চান প্রযুক্তিবিদেরা। তবে এ ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মত তাদের।

রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে গত মাসের ৭ তারিখ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়। সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের নামে ডিজিটালি মামলা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। এরপর ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ‘ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার’ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। ৭ মে থেকে নির্ধারিত মোড়ে স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ। ট্রাফিক পুলিশের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন প্রায় সব ধরনের যানবহানচালকেরাই। রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ে অফিসে যাওয়ার উদ্দেশে গাড়িতে অপেক্ষমাণ একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত নুসরাত জাহান বলেন, আগে এই মোড়েই আধা ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু এখন মিনিটের হিসাবে বদলাচ্ছে সিগন্যাল বাতি, যেটা ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে গেলে দেখতে পাই। নিঃসন্দেহে এটি ভালো উদ্যোগ। রাজধানীর সবগুলো সড়কে এমনটি চালু হলে যানজট বলতে দেশে আর কিছু থাকবে বলে আমার মনে হয় না।

এদিকে এআই-নির্ভর হচ্ছে দেশের স্বাস্থ্য খাতও। এই খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, নগদ লেনদেনের অস্বচ্ছতা, রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণে দুর্বলতা এবং চিকিৎসকদের আয়ের প্রকৃত তথ্য গোপনের অভিযোগ মোকাবিলায় পুরো খাতকে অটোমেশনের আওতায় আনার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে একটা পরিকল্পনা করেছি। যেখানে অটোমেশনের অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন, কেন্দ্রীয় রোগী ডাটাবেইস, রেফারেল সিস্টেম ও প্রেসক্রিপশন অডিট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের ফি ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রহণ এবং সেই লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণেরও চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে। এসব বাস্তবায়ন করা গেলে চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে আর কারো কোনো অভিযোগ থাকবে বলে আমি মনে করি না। তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে ধাপে ধাপে পুরোপুরি ডিজিটাল কাঠামোয় নিয়ে যেতে চায়। এর অংশ হিসেবে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, প্রেসক্রিপশন, রোগী রেফারেল, ওষুধ ব্যবস্থাপনা, বিলিং ও আর্থিক লেনদেনকে একই প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা চলছে। বিষয়টি আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারেও ছিল। যার বাস্তবায়ন খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনারা দেখতে পারবেন।

ইতোমধ্যে ই-প্রেসক্রিপশন চালু নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ^াস রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ই-প্রেসক্রিপশন, রেফারেল সিস্টেম ও অটোমেশনÑ সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা হবে। এখন একজন রোগী উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে সেই কাগজপত্র পরে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় তা হারিয়ে যায়। কিন্তু অটোমেশন চালু হলে রোগীর সব তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে। এতে করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণ ও যাচাই করা যাবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের প্রকৃত আয়, রোগী দেখার সংখ্যা ও ফি গ্রহণের তথ্যও কর প্রশাসনের আওতায় চলে আসবে। অর্থাৎ, কাগুজে কোনো সিস্টেম আর চালু রাখতে চাই না আমরা। দেশের প্রত্যেক রোগীর একটি ইউনিক স্বাস্থ্য পরিচিতি নম্বর থাকবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো এই নম্বর ব্যবহার করে দেশের যেকোনো হাসপাতাল থেকে রোগীর আগের ইতিহাস দেখা যাবে। এতে করে একই রোগীর বারবার পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না। ভুল তথ্যের কারণে মৃত্যুঝুঁকিও থাকবে না। সরকারের পরিকল্পনায় শুধু প্রেসক্রিপশন নয়, হাসপাতালের বেড ম্যানেজমেন্ট, ওষুধ সরবরাহ, ল্যাব রিপোর্ট, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, রোগী ভর্তি, বিলিং ও ক্রয় প্রক্রিয়াও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার চিন্তা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকার নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী যদি স্বাস্থ্য খাতের এসব বিষয় বাস্তবায়ন কওে, তাহলে তা দেশের ইতিহাস নতুন করে রচিত হবে মন্তব্য করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, দেশের সবচেয়ে অবহেলিত খাত হচ্ছে স্বাস্থ্য খাত। নানান সময়ে এই খাতের দুর্নীতি-লুটপাটের কারণে সাধারণ রোগীদের জীবন দিয়ে পর্যন্ত খেসারত দিতে হয়েছে। এখন যেহেতু সড়কে এআই পদ্ধতি চালু করেছে বিএনপি সরকার এবং স্বাস্থ্য খাতকেও অটোমেশন করার কথা বলছে, সেহেতু আমরা মনে করি খাতটিতে বিদ্যমান এত দিনের স্থবিরতা দূর হবে। সুষ্ঠু চিকিৎসা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পাবে বলে আমি মনে করি।

এদিকে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের লক্ষ্যে বিদ্যুৎব্যবস্থা নিরাপদ, যুগোপযোগী ও স্মার্ট করার জন্য জোর তাগিদে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বিদ্যমান বিদ্যুৎব্যবস্থা আরো নিরাপদ, স্মার্ট ও যুগোপযোগী করার জন্য ওয়ার্কিং পেপার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে জানা গেছে, পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের আগে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো শনাক্ত করে সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য কাজ চলছে। উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন হওয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই আমাদের যথাযথ প্রস্তুতি থাকতে হবে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সেই প্রস্তুতি আমরা শুরু করেছি। পিজিসিবিকে প্রয়োজনীয় স্টাডি করে কনসেপ্ট পেপার তৈরি করতে বলা হয়েছে। সেই পেপার বিদেশি কনসালটেন্ট, যাদের নিউক্লিয়ার পাওয়ার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আছে, তাদের দিয়ে স্টাডি করানো হবে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পারমাণবিক বিদ্যুৎ আসার আগেই সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন করা হবে। আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে যথাসময়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।

মন্ত্রী বলেন, গ্যাসভিত্তিক পাওয়ার থেকে আমরা মাল্টি পাওয়ার, কয়লা, সোলার সিস্টেমের দিকে এগিয়েছি; এখন নিউক্লিয়ার পাওয়ারের দিকে যাচ্ছি। তবে এর জন্য ট্রান্সমিশন লাইন, ডিস্ট্রিবিউশন লাইন সিনক্রোনাইজ অত্যন্ত জরুরি; কিন্তু বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে তার কিছুই করা হয়নি। এগুলো সিনক্রোনাইজ করার জন্য যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। সেটা না করলে সিস্টেম কলাপ্স করতে পারে। সে রকম দুর্ঘটনা যেন না ঘটে, তার প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। এর জন্য আমরা একটা উপযুক্ত স্মার্ট ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করানোর চেষ্টা করছি। মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটি যেহেতু খুব উচ্চ প্রযুক্তির এবং জটিল কারিগরি সিস্টেম, তাই এর জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। জনগণের নিরাপত্তার দিকে সর্বোচ্চ নজর দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শুধু তাই নয় পুরো বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতে কোনো কাগুজে নির্দেশনা থাকবে না ভবিষ্যতে। পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ হবে এআই দিয়ে। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।

পরিবেশ ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। বাতাসের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, দূষণের মাত্রা এবং অন্যান্য পরিবেশগত উপাদান বিশ্লেষণ করে এআই আগাম সতর্কবার্তা দিতে পারে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রদানে এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে কার্যকর।

বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই। একসময় যা ছিল কল্পবিজ্ঞানের বিষয়, আজ তা বাস্তব জীবনের নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাস্তার যানজট নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন তৈরি, বিদ্যুতের মিটার ব্যবস্থাপনা থেকে বাতাসের গুণগত মান বিশ্লেষণÑ সবখানেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!