× UCB Sticker Card
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৫:৫০ এএম

এফবিসিসিআইর বাজেট প্রতিক্রিয়া

বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৫:৫০ এএম

বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন অসম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠটি বলছে, এই বাজেট বাস্তবায়নে প্রয়োজন দূরদর্শীতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা। গতকাল শনিবার বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে সংগঠনটির পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এফবিসিসিআই বলছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণা করায় অর্থমন্ত্রীকে এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ। সরকারের প্রথম ও বিএনপি সরকারের ১৩তম বাজেট দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি ন্যায্যতাকে মূল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার এবং সরকারের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার আলোকে বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসার পরিবেশ, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রভৃতি খাতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

এজন্য সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। অর্থনীতির পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টায় বাজেটে ত্রিআর কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুন:প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের উন্নয়ন এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

এফবিসিসিআই বলছে, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা (১৮.৭ শতাংশ) বেশি। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসৃজন সৃষ্টি, বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণ বিশেষ করে নি¤œ আয়ের সুবিধা বঞ্চিত জনগণকে সুবিধা প্রদান এবং সর্বোপরি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে যেতে এ বাজেটের আকার অবাস্তব নয়। তবে দেশের ইতিহাসের এই সর্বোচ্চ বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। বাজেটে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনসাধারণের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।

এফবিসিসিআই আরও বলছে, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা- যা জিডিপি’র ১০.২ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতের লক্ষ্যমাত্রা ৯১ হাজার কোটি টাকা। এ বিশাল রাজস্ব আদায় সরকাররে জন্য একটি বড় চ্যালঞ্জে। এমনতিইে বর্তমানে দেশের সামষ্টকি অর্থনীতির সূচকসহ রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া বিশ্বব্যাপী বিরাজমান কঠিন পরস্থিতির কারণে ভীষণ চাপের মুখে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি-ব্যবসা-বিনিয়োগবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নশ্চিতি করা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার জরুরি বলে আমরা মনে করি।

প্রতিক্রিয়ায় এফবিসিসিআই আরও জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা যা জিডিপি’র ৩.৬ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা নিতে হবে এবং বৈদেশিক উৎস হতে নিতে হবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। যদিও ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছর থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করা হয়েছে তবুও ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা, ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে স্থানীয় ব্যাংক ব্যবস্থার পরিবর্তে যথাসম্ভব সুলভ সুদে ও সতর্কতার সঙ্গে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের জন্য নজর দেওয়া যেতে পারে। সংগঠনটি বলছে, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তদারকির মান ক্রমাগতভাবে উন্নয়নের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পনা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ছাড়াও বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার জন্য এফবিসিসিআই আহ্বান জানাচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ সুদ পরিশোধ বাবদ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সুদ পরিশোধ বাবদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকাসহ সরকারকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করতে হবে। এই সুদের অর্থ পরিশোধের জন্য অর্থ সংস্থান সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। বাজেট বাস্তবায়নে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম কর-জিডিপি অনুপাত, খেলাপি ঋণের উচ্চহার, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নে বাজেটের সাফল্য নির্ধারণ করবে।

‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’সহ নানা সামাজিক সূরক্ষায় নেওয়া নানা পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়েছে প্রতিক্রিয়ায়। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সরকার যে বিশেষ জোর দিয়েছে সেটিকে তারা বলছে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি এবং নারী উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। করপোরেট করের হার ৫ বছর মেয়াদি করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২.৫ শতাংশ হারে কমালে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তো বলে মনে করছে এফবিসিসিআই।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!