সরকারের যেকোনো কর্মকা-ের গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে কোনো তথ্য বা ঘটনাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা সরকার ও গণমাধ্যম উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতি বয়ে আনবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার অন্যের মতামতকে কখনো দমিয়ে রাখতে চায় না। অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি মানুষের হতেই পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ইচ্ছাকৃত ভুল কেন করব? আমাকে তো আবার জনগণের মুখোমুখি হতে হবে, নির্বাচন করতে হবে।’
স্কুল পর্যায় থেকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে দেশব্যাপী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- এবং উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন যে দল সরকারে থাকে, তখন একটি নির্দিষ্ট পক্ষ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। বর্তমান সরকার সেই সুযোগ কাউকে দেবে না এবং দেশে আইনের সুশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এ সময় তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পারিবারিক কোনো কলহকে যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক রূপ দেওয়া না হয়। এ ছাড়া আইন লঙ্ঘন করে কেউ যেন অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দিতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষ যাতে খুব কম খরচে বিদেশ সফর বা অভিবাসন করতে পারেন, সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই দিন সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চারটি পত্রিকা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের সময় এই পরিবেশ নেই। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা বিভ্রান্ত, মিথ্যা বা অপপ্রচারের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিগত স্বৈরাচারের সময় অনেক কষ্ট করেছেন, তাদের প্রতি আমরা সহনশীল। তবে এখন এই মুহূর্তে আমাদের সেই পুরোনো চিন্তা ও ক্ষোভ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। অতীতের সব কষ্ট ও অত্যাচার এখন ভুলে গিয়ে নতুন করে দেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে। সরকার গঠনের মাত্র চার মাস পার হলেও এই স্বল্প সময়েই দায়িত্বের চাপ খুব বেশি করে অনুভব করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশে বিভিন্ন রকম প্রায়োগিক কারিকুলাম ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে ছেলেমেয়েরা তাদের মূল্যবান সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা- ও শিশু-কিশোরদের নিয়ে নেওয়া উদ্যোগগুলো গণমাধ্যমে যথাযথভাবে আসছে না বলে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেলা পর্যায় থেকে বাচ্চাদের জন্য এখন অনেক প্রোগ্রাম বা কর্মসূচি করা হচ্ছে, তবে তা সংবাদমাধ্যমে আশানুরূপভাবে প্রকাশ পাচ্ছে না। এই ভালো উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষকে অবগত করা দরকার বলে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ মানুষকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করতে চাইছি। সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন