কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামী ২৩ জুন। দিনটিকে ঘিরে কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম। তবে ডিএমপি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন এস এন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তার শঙ্কা নেই। তবে দিনটিকে ঘিরে ডিএমপি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতীতের মতোই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা চেকপোস্ট অব্যাহত রয়েছে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
সম্প্রতি চাঁদাবাজির অভিযোগে মোহাম্মদপুরে ‘কাইল্লা ফারুক’ নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে জনসম্মুখে ঘুরিয়েছিল পুলিশ। পরবর্তীতে সে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও চাঁদাবাজি করছেÑ সাংবাদিকদের এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, জামিনের বিষয়টি আদালতের বিষয়। আমাদের কাজটি আমরা করে যাব। সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজ পাব, আমরা গ্রেপ্তার করব। তাদের নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করব এবং আদালতে প্রেরণ করব।
এর আগে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে পুলিশকে ‘প্রয়োজনীয় সতর্কতার’ পাশাপাশি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয় সদর দপ্তর। ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে একটি ‘জরুরি বার্তা’ পাঠানো হয়। দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর পাঠানো ওই বার্তায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে দলটির ‘সম্ভাব্য কর্মকা- মূল্যায়ন’ করার কথা বলা হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, সেদিন দলটির তরফে দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে। এর ফলে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে এনসিপির নেতাকর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি তাদের কর্মকা-ে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে। এ অবস্থায় এসব বিষয় গুরুত্ব নিয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে ওই বার্তায়। এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন থেকে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে সারা দেশে ওই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর তিন দিন বাদে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে একে একে গ্রেপ্তার হতে থাকেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যরা। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে থাকা অন্য দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগের বাকি জ্যেষ্ঠ নেতাদের অধিকাংশই রয়েছেন আত্মগোপনে। ফলে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তারা নেই।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন