প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পরও ভোগ্যপণ্যের দামে বিশেষ কোনো প্রভাব পড়েনি। ঢাকায় ঈদ-পরবর্তীকালে চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি ছিল, এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। ঈদের পর থেকেই মোটা চালের দাম চড়া।
অন্যদিকে, ঢাকার খুচরা দোকানগুলোতে ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও সবজির দাম কিছুটা কমেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তেল, ডাল, চিনি, পেঁয়াজ ও আলুর দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
কারওয়ান বাজারে গতকাল শুক্রবার মেহেদি হাসান নামে একজন চালের ক্রেতা বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মোটা চালের দাম। বিআর-২৮ প্রতি কেজি খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকা। চিকন চালের দামও কিছুটা বেড়েছে।’
ঢাকার ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ভোজ্যতেল সয়াবিনের সরবরাহ ঠিক থাকায় দাম বাড়েনি। চালের দাম আগের চেয়ে একটু বেড়েছে। সবচেয়ে বেড়েছে মোটা চালের দাম। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
রাজধানীর সেগুনবাগিচা, মালিবাগ ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরু চালের মধ্যে মিনিকেটের কেজি ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা এবং নাজিরশাইলের কেজি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে এ দুই জাতের চালের দাম ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। মাঝারি চাল (পাইজাম ও লতা) বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬৫ টাকায়, যা সাত-আট দিন আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মোটা চালের (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) দাম। এসব চালের কেজি এক সপ্তাহ আগে কেনা গেছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকায়। এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৬ টাকায়।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণের তথ্যও চালের দাম বাড়ার এই চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
বিক্রেতারা জানান, বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের ওপর সরাসরি কোনো কর বা শুল্ক আরোপ করা হয়নি। তাই দাম ঈদের আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আগের বছরগুলোতে বাজেটের আগে ও পরে পণ্যের দামে বিশাল ফারাক দেখা যেত। তখন ভোক্তাদের পকেট কাটার প্রতিযোগিতা শুরু করতেন কিছু ব্যবসায়ী। তবে এবার ভোগ্যপণ্যের দামে ব্যতিক্রম হয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, সোনালি মুরগি কেজি ৩২০ টাকা কেজি, ডজনপ্রতি ডিমের দাম রয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা। অন্যদিকে, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আগের দামের কাছাকাছিই বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও বাজেট ঘোষণার পর উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকা (জীবিত ও মৃত উপরে দাম নির্ধারণ), রুই ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ির দাম বেশি দেখা গেছে। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজিতে খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা। এদিকে কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজিতে ভরপুর কাঁচাবাজার। হাতের নাগালে আসতে শুরু করেছে অনেক সবজির দাম। অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকা। তার ওপরে বিক্রি হচ্ছে হাতেগোনা কয়েকটি সবজি।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে বাজারে চিকন চালের দাম ১ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। মাসখানেক আগে যে চিকন চালের দাম সর্বনি¤œ ৭০ টাকায় নেমেছিল, তা এখন আবার বেড়ে ৭২ টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ, কেজিতে বেড়েছে ২ টাকা।
ঢাকার খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ভালো মানের যে চিকন চালের দাম কিছুদিন আগে ৩ থেকে ৫ টাকা কমে ৮০ থেকে ৮২ টাকায় নেমেছিল, তা এখন আবার বাজারে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
টিসিবির হিসাবে, মাঝারি মানের চালের দাম ২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে যে মাঝারি মানের চাল ৫২ টাকায় নেমেছিল, তা এখন ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এক মাস আগে ৪৮ টাকায় নেমে যাওয়া মোটা চালের দাম কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন