টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খুঁটির পরিবর্তে বাঁশ ও গাছের ডাল ব্যবহার করে পিডিবির এলটি (লো-টেনশন) খোলা তারের বিদ্যুৎ লাইন টানানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারণে দুর্ঘটনার আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে প্রায়ই বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘœ, ট্রান্সফরমার বিকল ও তার ছিঁড়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার কচুয়া, বেতুয়া, শালগ্রামপুর, কালিয়ানসহ কয়েকটি এলাকায় দেখা যায়, বিদ্যুতের স্থায়ী খুঁটির বদলে বাঁশ ও গাছের ডালের ওপর ভর করে টানা হয়েছে বিদ্যুতের তার। কচুয়া বাজারের পশ্চিম পাশে মেইন লাইন থেকে মামুন শিকদারের গভীর নলকূপে নেওয়া সংযোগে দেখা গেছে, দুই-একটি ভাঙা সিমেন্টের খুঁটি ছাড়া প্রায় পুরো লাইনটিই বাঁশের ওপর নির্ভরশীল। এ লাইনের ওপর নির্ভরশীল দুই শতাধিক গ্রাহক। ঝুঁকিপূর্ণ এ লাইনটি আবার একটি রাস্তার ওপর দিয়েও গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বাতাস বা ঝড় হলেই বাঁশের খুঁটি ভেঙে বিদ্যুতের তার মাটিতে পড়ে যায়। বিষয়টি বারবার বিদ্যুৎ অফিসকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মূল বিদ্যুৎ খুঁটি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত বাঁশ ও গাছের সাহায্যে তার টেনে শত শত বাড়ি, গভীর নলকূপ ও সেচ পাম্পে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে তারগুলো বাঁশঝাড় ও গাছের ডালের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। বাতাসের সময় এসব তারে ঘর্ষণ ও শর্টসার্কিটের ঘটনা ঘটে। এতে ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে।
কচুয়া গভীর নলকূপের মালিক ও কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মামুন সিকদার বলেন, ‘খোলা বিদ্যুতের তারে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে আমাদের লাইন চলছে। বারবার বিদ্যুৎ অফিসে জানালেও কোনো সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত মেরামত করা না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
পরান মিয়া বলেন, ‘আমাদের বসতবাড়ির ওপর দিয়ে ভাঙা খুঁটির মাধ্যমে খোলা তারের বিদ্যুৎ লাইন গেছে। সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়, কখন দুর্ঘটনা ঘটে।’
বেতুয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, ‘গাছ ও বাঁশের সঙ্গে টাঙানো বিদ্যুতের তারগুলো এত নিচু যে হাত বাড়ালেই স্পর্শ করা যায়। পুরোনো তার প্রায়ই ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্কুল ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন। অনেক জায়গায় ঝুলন্ত বিদ্যুৎ লাইনের নিচ দিয়েই শিশুদের চলাচল করতে হয়।’
বেতুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো. উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে এলটি লাইনের তার বাঁশবাগানের ভেতর ও বাঁশের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর আগে বিদ্যুতায়িত হয়ে দুটি গরুসহ কয়েকটি প্রাণী মারা গেছে। মানুষের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
শালগ্রামপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মো. দুলাল হোসেন বলেন, ‘অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগের কারণে মানুষ আতঙ্কে থাকে। পাশাপাশি লো-ভোল্টেজ সমস্যায় গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এ বিষয়ে সখীপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবকর তালুকদার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার দপ্তরে কেউ অবহিত করেনি। এখন বিষয়টি জানলাম। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন