× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

অতিবৃষ্টিতে পাটের ফলন বিপর্যয়

কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৪:০৩ এএম

অতিবৃষ্টিতে পাটের ফলন বিপর্যয়

গত বছরের তুলনায় পাটের ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের অনেক কৃষক আবাদ বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে টানা অতিবৃষ্টিতে সেই আশায় ভাটা পড়েছে। বীজ বপন ও চারা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে অধিকাংশ জমিতে পাটগাছ স্বাভাবিক উচ্চতা পায়নি। ফলে গাছ খর্বাকৃতির হওয়ায় আঁশের পরিমাণ কমেছে, কমেছে বিঘাপ্রতি ফলনও। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

কৃষক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পাট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় পাটগাছ স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৫ ফুট কম উচ্চতার হয়েছে। এর ফলে প্রতি বিঘায় গড়ে ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত উৎপাদন কম হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ফলন হ্রাসের কারণে অনেক কৃষকের পক্ষে বিনিয়োগের অর্থ তুলেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম জানান, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় তিনি এবার এক বিঘা জমি বাড়িয়ে মোট ছয় বিঘায় পাট চাষ করেন। কিন্তু প্রত্যাশিত ফলন পাননি। তিনি বলেন, ‘প্রতি বিঘায় এবার প্রায় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার টাকা বেশি। সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। গত বছর পাঁচ বিঘা জমি থেকে ২৮ মণ পাট পেয়েছিলাম এবং প্রতি মণ ৩ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এবার ছয় বিঘা জমি থেকে পেয়েছি মাত্র ২৪ মণ। অথচ উৎপাদন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার টাকা।’

কালীগঞ্জ উপজেলার শৈলমারী চরের কৃষক বাবলু মিয়া বলেন, গত বছর ছয় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। ভালো দাম পাওয়ার আশায় এবার আবাদ বাড়িয়ে আট বিঘা করেন। কিন্তু এবার প্রতি বিঘায় পাঁচ মণেরও কম ফলন হয়েছে। তার ভাষ্য, ‘বীজ বোনার পর থেকেই অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গাছ ঠিকমতো বাড়তে পারেনি। ফলন কমেছে। এখন বাজারে পাটের দাম ভালো না হলে উৎপাদন খরচই উঠবে না।’

একই গ্রামের কৃষক আবেদ আলী বলেন, ‘জীবনে এবারই প্রথম এত খাটো পাটগাছ দেখছি। দাম ভালো হলেও লাভ হবে না। গাছ ছোট হওয়ায় আঁশও কম হয়েছে। গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকার কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, সাত বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। এর মধ্যে দুই বিঘার পাট কাটা হয়েছে। প্রতি বিঘায় উৎপাদন ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় সব ফসলেই কৃষক লোকসান করছেন। আলুতে লোকসান হয়েছে, ধানে কোনোমতে খরচ উঠেছে, ভুট্টার দামও কম। এবার পাটেও ফলন কমে গেল। এভাবে কৃষকের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নীলফামারীÑ এই পাঁচ জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন। গত বছর ৪৮ হাজার ৩৪৫ হেক্টর জমি থেকে উৎপাদিত হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৫৬০ টন পাট। এবারও সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় একটি পাটগাছের উচ্চতা ৮ থেকে ১৩ ফুট হয় এবং প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ মণ পাট উৎপাদন হয়। কিন্তু এ বছর বীজ বপন ও চারার বৃদ্ধির সময় দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাতের কারণে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। তিনি জানান, গাছের উচ্চতা ২ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত কম হয়েছে। ফলে প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত ফলন কমেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ পাট কাটা হয়েছে। বাকি ৭০ শতাংশ জমির পাট কাটার পাশাপাশি জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন পাট বাজারে আসতে শুরু করবে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রংপুর অঞ্চলে গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫০৪ মিলিমিটার, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল ১৭০ মিলিমিটার। মে মাসে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৭৮৬ মিলিমিটার, যা গত বছরের একই সময়ের ১৯৫ মিলিমিটারের প্রায় চার গুণ। অথচ পাট চাষের জন্য এপ্রিল ও মে মাসে ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতই যথেষ্ট।

বাংলাদেশ পাট অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের মুখ্য পরিদর্শক তারানা আফরোজ সজনী বলেন, খর্বাকৃতির পাটগাছের কারণে এ বছর ফলন কম হওয়ায় কৃষকদের আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত বছর কৃষকেরা সর্বোচ্চ প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছিলেন। তবে এবার এখনো নতুন পাটের ব্যাপক সরবরাহ শুরু হয়নি। বাজারে সরবরাহের পরিমাণের ওপরই দাম অনেকাংশে নির্ভর করবে। আন্তর্জাতিক বাজারে পাট রপ্তানি কার্যক্রম জোরদার করা গেলে দেশের বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং পাট চাষে আরও উৎসাহিত হবেন। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য উন্নতমানের পাটবীজ, সারসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি রোধে নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!