ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও বহু অঞ্চলে এখন পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রাজধানীর বাইরে অনেক পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় চালকদের একাধিক কেন্দ্র ঘুরেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। রুশ প্রশাসন পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করলেও বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ সংকট ও সীমিত বিক্রির কারণে জনভোগান্তি বাড়ছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ এলাকাতেই জ্বালানি সরবরাহে বিঘœ দেখা দিয়েছে। এদিকে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়াতেও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপদ্বীপটিতে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে কত সময় লাগবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের নতুন ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বৃহৎ পণ্য সংরক্ষণ কেন্দ্রের দুটি গুদামে অন্তত সাতজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার লক্ষ্য ছিল রুশ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। একই সময়ে রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ এখন কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই; উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের জ্বালানি, পরিবহন ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে পড়ছে এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরেও সংকট ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন