× UCB Sticker Card
রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০১:৩২ এএম

বিশ্বকাপের নতুন সূর্যোদয়

যেভাবে পাঁচ তারকা লিখলেন নিজেদের মহাকাব্য

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০১:৩২ এএম

যেভাবে পাঁচ তারকা লিখলেন নিজেদের মহাকাব্য

প্রতিটি বিশ্বকাপ যেন সময়ের বুক থেকে একটি প্রজন্মকে বিদায় জানায়, আবার আরেকটি প্রজন্মকে পৃথিবীর সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপও ছিল তেমনই এক সন্ধিক্ষণ। একদিকে লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপের আবেগ, কিলিয়ান এমবাপ্পের ধারাবাহিকতা, হ্যারি কেইনের অভিজ্ঞতাÑ অন্যদিকে কয়েকটি তরুণ কিংবা অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত মুখ নিজেদের পায়ের জাদুতে লিখেছেন নতুন ইতিহাস।

বিশ্বকাপ শেষে যখন আলোচনার টেবিলে সেরা গোল, সেরা ম্যাচ কিংবা সেরা দলের কথা উঠেছে, তখন বারবার ফিরে এসেছে কয়েকটি নামÑ লামিনে ইয়ামাল, আন্তোনিও নুসা, এনজো ফার্নান্দেজ, দানি ওলমো এবং ভোজিনহা। তাদের গল্প কেবল একটি টুর্নামেন্টের নয়; এটি স্বপ্ন, সংগ্রাম, অপেক্ষা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার গল্প।

লামিনে ইয়ামাল : লা মাসিয়ার উঠোন থেকে বিশ্বমঞ্চের আলো

বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়ার সবুজ মাঠে যখন ছোট্ট ইয়ামাল প্রথম বলে পা ছোঁয়ান, তখন খুব কম মানুষই জানতেনÑ এই কিশোর একদিন বিশ্বকাপের আলো কেড়ে নেবে। অদম্য আত্মবিশ্বাস, অসাধারণ ড্রিবলিং আর সৃজনশীল ফুটবল খুব অল্প বয়সেই তাকে স্পেনের জাতীয় দলে পৌঁছে দেয়।

২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি শুধু সম্ভাবনার প্রতীক ছিলেন না, ছিলেন স্পেনের আক্রমণের প্রাণ। উইং থেকে তার ক্ষুরধার দৌড়, নিখুঁত অ্যাসিস্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল স্পেনকে একের পর এক বাধা পেরিয়ে ফাইনালে তুলেছে। বড় ম্যাচের চাপকে যেন তিনি খেলায় পরিণত করেছিলেন। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই ফুটবলবিশ্ব বুঝে যায়Ñ মেসি-রোনালদো যুগের পর নতুন এক সুপারস্টারের জন্ম হয়েছে।

আন্তোনিও নুসা : ছায়া ভেঙে নিজের আকাশ

নরওয়ের ফুটবলে দীর্ঘদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন আরলিং হলান্ড। তার বিশাল উপস্থিতির আড়ালে আন্তোনিও নুসার প্রতিভা অনেকটাই চাপা পড়ে ছিল। কিন্তু যারা যুব ফুটবলে তাকে দেখেছেন, তারা জানতেনÑ এই ছেলেটির পায়ে রয়েছে বিস্ময়।

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর নুসা যেন নিজের ভেতরের সব প্রতিভা উজাড় করে দিলেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণ চিরে যাওয়া দৌড়, একের পর এক সুযোগ তৈরি এবং দুর্দান্ত অ্যাসিস্টে নরওয়ের আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেন তিনি। হলান্ড গোল করেছেন, কিন্তু সেই গোলের গল্পের পেছনে অনেক সময় ছিল নুসার পায়ের জাদু। বিশ্বকাপ শেষে তিনি আর শুধু হলান্ডের সতীর্থ ননÑ নিজেও বিশ্বফুটবলের আলোচিত এক তারকা।

এনজো ফার্নান্দেজ : মধ্যমাঠের নীরব সেনাপতি

আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী রিভার প্লেট থেকে উঠে আসা এনজো ফার্নান্দেজের ফুটবলজীবন ছিল ধৈর্য ও পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি। ২০২২ বিশ্বকাপে সম্ভাবনার ঝলক দেখালেও ২০২৬ সালে তিনি হয়ে ওঠেন দলের হৃদস্পন্দন।

মধ্যমাঠে তার প্রতিটি পাস, প্রতিটি ট্যাকল আর প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন আর্জেন্টিনার খেলার ছন্দ ঠিক করে দিয়েছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত গোল এবং পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে তিনি বুঝিয়ে দেনÑ মেসির পর আর্জেন্টিনার নেতৃত্ব নেওয়ার মতো মানসিকতা ও সামর্থ্য তার রয়েছে। বিশ্বকাপ শেষে এনজো শুধু একজন মিডফিল্ডার নন, তিনি হয়ে ওঠেন ভবিষ্যৎ আর্জেন্টিনার প্রতীক।

দানি ওলমো : অপেক্ষার পর পূর্ণতার গল্প

স্পেনের ফুটবলে দানি ওলমো নতুন নাম নন। তবে দীর্ঘদিন তিনি ছিলেন সম্ভাবনার তালিকায়। বড় মঞ্চে নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরার সুযোগ যেন বারবার হাতছাড়া হয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায়। টুর্নামেন্টজুড়ে তার গোল, অ্যাসিস্ট এবং সৃজনশীলতা স্পেনের আক্রমণকে আরও ধারালো করে তোলে। ইয়ামালের সঙ্গে তার বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। কখনো গোল করে, কখনো সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন স্পেনের ফাইনালে ওঠার অন্যতম কারিগর। এই বিশ্বকাপ যেন তার ক্যারিয়ারের নতুন পরিচয় লিখে দিয়েছে।

ভোজিনহা : বয়সকে হার মানানো এক অনুপ্রেরণার নাম

সব তারকার গল্প সমান নয়। কেউ আলোয় আসেন অল্প বয়সে, আবার কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার গল্প দ্বিতীয়টিরই উদাহরণ।

চল্লিশ বছর বয়সে এসে যখন অনেক ফুটবলার অবসরের কথা ভাবেন, তখন ভোজিনহা নিজের দেশের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযানে রচনা করেন অনন্য এক কাহিনি। একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে তিনি কেপ ভার্দেকে ইতিহাসের সেরা সাফল্যের পথে এগিয়ে নেন। তার গ্লাভসে আটকে যায় অনেক শক্তিশালী দলের স্বপ্ন। বিশ্বকাপ শেষে তিনি প্রমাণ করে দেনÑ তারকা হওয়ার জন্য শুধু বয়স নয়, দরকার সাহস, নিষ্ঠা আর সঠিক সময়ে নিজের সেরাটা তুলে ধরার ক্ষমতা।

নতুন যুগের সূচনা

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে, কিন্তু রেখে গেছে নতুন এক প্রজন্মের গল্প। ইয়ামালের পায়ে স্পেন দেখেছে আগামী দিনের নেতৃত্ব, নুসা নরওয়েকে দেখিয়েছেন নতুন স্বপ্ন, এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনাকে দিয়েছেন ভবিষ্যতের ভরসা, দানি ওলমো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বড় মঞ্চের কারিগর হিসেবে, আর ভোজিনহা শিখিয়েছেনÑ স্বপ্ন পূরণের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই।

ফুটবলের ইতিহাসে প্রতিটি বিশ্বকাপ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ২০২৬ সালের এই আসরও তেমনই একটি অধ্যায়, যেখানে কয়েকজন ফুটবলার শুধু নিজেদের নামই লেখেননি, লিখেছেন আগামী দিনের ফুটবলের রূপরেখা। হয়তো কয়েক বছর পর যখন বিশ্বফুটবলের নতুন রাজাদের কথা বলা হবে, তখন ফিরে তাকাতে হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকেÑ যেখান থেকে শুরু হয়েছিল তাদের কিংবদন্তি হয়ে ওঠার পথ।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!