× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৩:৩৫ এএম

খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে সিন্ডিকেট

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৩:৩৫ এএম

খাদ্য গুদামে ধান  সংগ্রহে সিন্ডিকেট

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে গিয়ে হয়রানি ও অনিয়মের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক কৃষক। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মুহাইমিনুলের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, উৎকোচ দাবি এবং সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে চিতলমারী উপজেলায় ১ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন ধান এবং ২ হাজার ১৭৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা এবং চালের মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণাও চালানো হয়। অভিযোগকারী কৃষকদের দাবি, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে গেলেও প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে না। তাদের কৃষক কার্ড জমা রেখে নানা অজুহাতে ধান ফেরত দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অন্য উৎস থেকে ধান সংগ্রহ করে গুদাম ভর্তি করা হচ্ছে। এ কারণে প্রকৃত কৃষকরা দিনের পর দিন ধান নিয়ে ঘুরেও বিক্রি করতে পারছেন না।

কৃষকদের আরও অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বস্তাসহ ৪১ কেজি ২০০ গ্রাম ধান গ্রহণের কথা থাকলেও খাদ্য গুদামে ৪২ কেজি ২০০ গ্রাম করে ধান নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি ৫০ মণ ধানের বিপরীতে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ মণ ধান উৎকোচ হিসেবে দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরকারি রাজস্ব বাবদ অর্থ কেটে রাখা হলেও কোনো ভাউচার দেওয়া হয় না বলেও তারা দাবি করেন। শিবপুর কাটাখালী গ্রামের কৃষক ঠা-া ফকির বলেন, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে খাদ্য গুদাম থেকে অপমান করে বের করে দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, খাদ্য গুদামকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা পুরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে।

খড়মখালী গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাঁচ বিঘা জমির ধান নিয়ে গুদামে গেলেও ঘুষ না দেওয়ায় তার ধান নেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে ধান গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হিজলা গ্রামের কৃষক মো. ইসহাক বলেন, সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে না পারলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। খাদ্য গুদামে গিয়ে বারবার হয়রানির শিকার হওয়ায় তিনি হতাশ। আড়ুয়াবর্ণী গ্রামের কৃষক মো. শরিফুল হক অভিযোগ করেন, খাদ্য গুদাম চত্বর একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। এই সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা কৃষকদের ধান গ্রহণ করা হয় না এবং ঘুষবাণিজ্যও তারাই নিয়ন্ত্রণ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিতলমারী ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মুহাইমিনুল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলতে তিনি রাজি হননি। চিতলমারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কাওছার আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি অফিসে ফিরে অভিযোগ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট কৃষকদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!