কেউ ভালো না করলে দপ্তর পুনর্বণ্টন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী এবং সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, গত ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়া রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনই বর্তমান সরকারের গত পাঁচ মাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার কোনোভাবেই গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-কে প্রশ্রয় দেবে না। এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের পাঁচ মাসের কার্যক্রম ও সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিভিন্ন স্তর দুর্বল হয়ে পড়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠান স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করার কথা, সেগুলোর অনেকটির সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন করে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ’। সরকার সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনী বর্তমানে দায়িত্ব পালন করলেও অতীতের নানা ঘটনার কারণে জনগণের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। মানুষের মধ্যে যে মানসিক আঘাত ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। একইসঙ্গে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে’।
সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা এবং বিভিন্ন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যম অভিযোগ তুলে ধরবে, সংশ্লিষ্টরা তার জবাব দেবেন এবং প্রয়োজন হলে সরকার তদন্ত ও ব্যবস্থা নেবে। এ ধরনের প্রক্রিয়াই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চার অংশ। কেউ ভালো না করলে দপ্তর পুনর্বণ্টন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী’।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জনগণ বর্তমান সরকারের কাছে বড় ধরনের প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাও সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি জনগণকে কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পরিচয়ে এক যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং মানবাধিকার সংগঠনের গুমসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার অভিযোগটি অস্বীকার করছে না। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হবে। বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও অতীতে গুমের শিকার হয়েছেন। ফলে গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের মতো ঘটনায় সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না’।
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো রাষ্ট্র যদি গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ে জড়িয়ে পড়ে, তবে তা আইনের শাসনের পরিপন্থি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা, আইনবহির্ভূত কোনো কর্মকা- নয়’। তথ্য কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মানবাধিকার কমিশনের মতো জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসবই সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। তথ্য কমিশন পুনর্গঠনের জন্য আইনে নির্ধারিত নির্বাচন কমিটি ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে। একইভাবে দুদক পুনর্গঠনের কাজও এগিয়ে চলছে। মানবাধিকার কমিশনের ক্ষেত্রেও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় পুলিশের গুলিতে নিহতদের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সরকার মূলত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে চায়। অতীতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের ক্ষেত্রেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিচার করা হয়েছে। একইভাবে যারা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন