টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং চট্টগ্রামের অবস্থা নাজুক। একইসঙ্গে ঢাকার প্রতিবেশী জেলাগুলোতে বন্যার প্রভাব পড়েছে। এ কারণে ঢাকা শহরে চাহিদার তুলনায় কাঁচা সবজির সরবরাহ কমেছে। মাসের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে কেজিতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম।
অন্যান্য সবজি ও আনাজের মধ্যে দাম বৃদ্ধিতে এগিয়ে আছে কাঁচামরিচ। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের মূল্য এরই মধ্যে ডাবল সেঞ্চুরি, অর্থাৎ ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অথচ এক মাস আগেই প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। তথ্য অনুসারে, ঢাকায় কোথাও কোথাও প্রতি কেজি ২৫০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, শুধু কাঁচামরিচ নয়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামই বেড়েছে। বর্তমানে ১০০ টাকার নিচে খুব অল্প কয়েক ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, কারওয়ান বাজার ও আশকোনা হজক্যাম্প বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে মূলত টানা বৃষ্টির কারণে। সপ্তাহ দেড়েক আগে দেশে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ কমেছিল। তখন অন্যান্য সবজির সঙ্গে কাঁচামরিচের দামও এক দফা বাড়ে। অন্যদিকে বৃষ্টি-বন্যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজি খেতে পানি জমেছে। এতে অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে। ফলে সবজির সরবরাহ সেভাবে বাড়েনি। এর মধ্যে দেশজুড়ে আবারও টানা পাঁচ দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঢাকার মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও মগবাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ অন্তত ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়। তবে কারওয়ান বাজারে ভালো মানের কাঁচামরিচ ২০০ টাকা এবং সাধারণ মানের মরিচ ১৬০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্প বাজারের ক্রেতা জাকির হোসেন জানান, তিনি ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ ৬০ টাকায় কিনেছেন। ফলে কেজি পড়ছে ২৪০ টাকা। তার ভাষায়, এক সপ্তাহ আগেও একই পরিমাণ মরিচ কিনতে ৪০ টাকা খরচ হয়েছিল।
এদিকে পেঁয়াজের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় পৌঁছেছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা আল-নাহিয়ান বলেন, পাইকারি বাজারে বৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচের সরবরাহ কমে গেছে। অন্যদিকে ক্রেতার চাহিদা অপরিবর্তিত থাকায় দাম দ্রুত বেড়েছে। একই কারণে অন্যান্য সবজির দামও বাড়তির দিকে রয়েছে।
বাজারের সর্বশেষ চিত্র অনুযায়ী, সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারেও চড়া দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। বর্তমানে বাজারে প্রতিকেজি লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১৫০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ও ঢেঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সম্প্রতি ৬০ টাকায় পাওয়া লাউয়ের দাম বেড়ে ঠেকেছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। গাজর ১৬০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। প্রতি কেজি রসুনের দাম ঠেকেছে ১৪০ টাকায়।
সবজির পাশাপাশি বাড়তি খরচের ধাক্কা লেগেছে ডিম, মুরগি ও মাছের বাজারেও। বাজারে ফার্মের লাল ডিম হালিপ্রতি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মাছের বাজারে মাঝারি আকারের চাষের রুই ও কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ও চাষের চিংড়ির কেজি হাঁকা হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। তা ছাড়া ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে।
নিত্যপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধিতে দৈনন্দিন কেনাকাটায় বাজেট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন, বাজার খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস উঠেছে। বাজারে স্বস্তি ফেরাতে তাই দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার জোরালো দাবি জানান তারা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন