চলতি ২০২৬ সালের চা উৎপাদন মৌসুমের প্রথম ৫ মাসেই দেশের চা শিল্পে আশাব্যঞ্জক সাফল্যের দেখা মিলেছে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে দেশের চা বাগানগুলোতে উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৮ হাজার কেজি চা। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৫ লাখ ৫৪ হাজার কেজি বেশি। উৎপাদনের এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধিতে চা শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা মনে করছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যা অব্যাহত চলতি বছর দেশে বাম্পার চা উৎপাদনসহ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত দেশে মোট চা উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৯৪ হাজার কেজি। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৪৮ হাজার কেজিতে। অর্থাৎ মাত্র ৫ মাসেই উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৫ লাখ ৫৪ হাজার কেজি।
চা বোর্ড ও বাগান কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, বছরের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, সময়মতো সার প্রয়োগ, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং বাগানগুলোর পরিচর্যার মানোন্নয়নের ফলে উৎপাদনে এই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান চা উৎপাদন অঞ্চল মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ, সিলেট ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাগানে মৌসুমের শুরু থেকেই সন্তোষজনক ফলন পাওয়া গেছে। চা শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে চা উৎপাদনের মূল মৌসুম হিসেবে ধরা হয়।
এ সময়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ফলে চলতি বছরের জন্য নির্ধারিত ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে মোট ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট জেলায়ও চা চাষের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। বিশেষ করে পঞ্চগড়কে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম চা উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের চা বাগানগুলোর মোট আয়তন প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার ১৪২ একর। এর মধ্যে চা চাষের উপযোগী জমির পরিমাণ ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৭৭ একর। বর্তমানে চা চাষ হচ্ছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪১ একর জমিতে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে চা চাষ সম্প্রসারণের জন্য আরও প্রায় ১৬ হাজার ১৩০ একর জমি রোপণযোগ্য অবস্থায় রয়েছে।
চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রতি একরে জাতীয় গড় চা উৎপাদন ৬২৮ কেজি। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত জাতের চা গাছ রোপণ সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই উৎপাদনশীলতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চা শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কৃষিভিত্তিক শিল্প। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশি চায়ের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন