× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৩:৪৪ এএম

প্রণোদনার আড়ালে বীজের জট

বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৩:৪৪ এএম

প্রণোদনার আড়ালে বীজের জট

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তুলা। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ তুলা আমদানি করতে হয়, এতে ব্যয় হয় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার প্রণোদনার মাধ্যমে তুলা চাষ সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

যশোর অঞ্চলের তুলাচাষিদের অভিযোগ, তাদের চাহিদা ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তুলাবীজ গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর জোনের আওতায় মণিরামপুর, ঝাঁপা, যশোর সদর, খাজুরা, ঝিকরগাছা-১ ও ২, কেশবপুর, শার্শা, উলাসী, চৌগাছা, হাকিমপুর, পোড়াপাড়া, চুকনগর, বারোবাজার ও কালীগঞ্জসহ ১৬টি তুলা উৎপাদন ইউনিট রয়েছে। এসব ইউনিটের আওতায় চলতি মৌসুমে প্রায় তিন হাজার কৃষক প্রণোদনার সুবিধা নিয়ে তুলা চাষ করবেন।

কৃষকদের অভিযোগ, তাদের পছন্দের বীজের পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি ব্র্যান্ডের বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। তারা সুপ্রিম সিড কোম্পানির ‘হোয়াইট গোল্ড-১’ ও ‘হোয়াইট গোল্ড-২’ জাতের বীজ চাইলেও তাদের হাতে দেওয়া হচ্ছে ইস্পাহানি কোম্পানির ‘লাল তীর’ ও ‘বিএম-৪’ ব্র্যান্ডের বীজ।

একাধিক কৃষকের দাবি, কয়েক বছর আগে লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ ব্যবহার করে প্রত্যাশিত ফলন পাননি। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে হোয়াইট গোল্ড জাতের বীজ ব্যবহার করে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত বীজতুলা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোম্পানির বীজ গ্রহণে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

চৌগাছার জগদীশপুর গ্রামের মাসুদ হোসেন, বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের হারুন ও বাবলুর রহমান, কোমরপুর গ্রামের আব্দুর রহিম, ঝিকরগাছার রাজাপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম, শিওরদাহ গ্রামের শিমুল হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাক, লক্ষ্মীপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান ও জাহাঙ্গীর হোসেনসহ একাধিক কৃষক জানান, অঙ্কুরোদ্গম হার কম এবং ফলন নিয়ে শঙ্কা থাকায় তারা লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ নিতে অনাগ্রহী। তবে প্রণোদনার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

কৃষকদের আরও অভিযোগ, যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোম্পানির বীজ বিতরণে চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঝিকরগাছা ইউনিট-১-এর কর্মকর্তা আসাদ হোসেন বলেন, ‘কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।’ তিনি জানান, তার ইউনিটে গত বছর ৪৫০ জন কৃষক তুলা চাষ করলেও এ বছর সেই সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

চৌগাছা ও হাকিমপুর ইউনিটের কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, তাদের ইউনিটে ৫৩০ জন কৃষকের জন্য ৩৫০ কেজি বীজের চাহিদার বিপরীতে ১৪৩ কেজি লাল তীর ব্র্যান্ডের বীজ পাওয়া গেছে। বাকি বীজ পরে সরবরাহ করা হবে। কৃষকদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোর করে বীজ বিতরণ করা হচ্ছে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। আমরা যে বীজ পাই, সেটিই বিতরণ করি।’ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে তিন হাজার বিঘা জমিতে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মণ বীজতুলা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। প্রণোদনার আওতায় প্রত্যেক কৃষক ৬০০ গ্রাম তুলাবীজের পাশাপাশি সার ও কীটনাশক পেয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে যশোর জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘কৃষকদের অভিযোগ সঠিক নয়। সরকার বিনা মূল্যে প্রণোদনার বীজ দেয়। লাল তীর কিংবা সুপ্রিম সিডÑ উভয় কোম্পানির বীজই মানসম্মত। সরকারি নীতিমালা অনুসারেই বীজ সংগ্রহ ও বিতরণ করা হয়। কোনো কোম্পানি সময়মতো বীজ সরবরাহ করতে না পারলে বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। আমরা সব সময় কৃষকের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিই।’ এদিকে কৃষকদের দাবি, বিতরণ করা বীজের গুণগত মান, সরবরাহ প্রক্রিয়া এবং কৃষকদের পছন্দ উপেক্ষার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সম্ভাবনাময় এই অঞ্চলে তুলা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরাও লাভবান হবেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!