× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বেতনহীনতায় কর্মচারীরা পানিসংকটে পৌরসভা

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৩:৩৮ এএম

বেতনহীনতায় কর্মচারীরা  পানিসংকটে পৌরসভা

বিদ্যুৎ সংকট, কারিগরি জনবলের অভাব এবং একাধিক অচল পানির পাম্পের কারণে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় তীব্র পানিসংকট দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি প্রায় তিন বছর ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পৌরসভার পানি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ফলে নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৩ দশমিক ৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ৩ হাজার ৯৯৯টি হোল্ডিং থাকলেও সুপেয় পানির সংযোগ রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫৩২টিতে, যা মোট হোল্ডিংয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ। ফলে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার এখনো পৌরসভার পানিসেবার বাইরে রয়েছে।

পৌরবাসীর জন্য নারিবাড়ি, গুরুদাসপুর, চাঁচকৈড় রসুনহাটা, গাড়িষাপাড়া, আনন্দনগর ও পার গুরুদাসপুর এলাকায় মোট ছয়টি গভীর নলকূপ (ডিপ পাম্প) স্থাপন করা হলেও পার গুরুদাসপুরের পাম্পটি দীর্ঘদিন ধরে অচল এবং আনন্দনগরের পাম্পটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এতে বিদ্যমান সংযোগে নিয়মিত পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং নতুন সংযোগ প্রদানও সম্ভব হচ্ছে না।

ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, ১ নম্বর ওয়ার্ডে ১ হাজার ১০২টি হোল্ডিংয়ের মধ্যে সংযোগ রয়েছে ২০৭টিতে, ২ নম্বরে ৭৫২টির মধ্যে ১৮০টি, ৩ নম্বরে ১ হাজার ১০২টির মধ্যে ২৮৫টি, ৪ নম্বরে ১ হাজার ৮৮টির মধ্যে ১২৮টি, ৫ নম্বরে ১ হাজার ৩১৪টির মধ্যে ৩৬৮টি, ৬ নম্বরে ৯৭৮টির মধ্যে ২০৭টি, ৭ নম্বরে ৮২৮টির মধ্যে ৭৯টি, ৮ নম্বরে ১ হাজার ২২টির মধ্যে ৭৬টি এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৮০৫টি হোল্ডিংয়ের একটিতেও পানির সংযোগ নেই।

পৌরসভায় বর্তমানে ৪৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, ৪২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ৮৪০টি বাণিজ্যিক এবং ৮ হাজার ১৫৯টি আবাসিক হোল্ডিং রয়েছে। পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ না থাকায় সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। পানি বিভাগে অনুমোদিত ১১টি পদের মধ্যে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বদলি ও মৃত্যুর কারণে পাইপলাইন মেকার এবং পাম্প অপারেটরের পদগুলো খালি থাকায় পাম্প রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রুটি মেরামত এবং নতুন সংযোগ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অদ্যাবধি প্রায় তিন বছর ধরে পানি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

পানি শাখার বিল ক্লার্ক ফারুক আহমেদ মিলন বলেন, ‘নাগরিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আগে দিনে দুইবার পানি সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় তিনবার পানি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পাম্প বন্ধ রাখতে হয়। বিদ্যুৎ ফিরে এলেই আবার পাম্প চালু করা হয়।’

গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশনে পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজ জানান, নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন পানিসেবা নিশ্চিত করতে গত অর্থবছরে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি পানির পাম্প পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই অচল ও পরিত্যক্ত পাম্পগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে পার গুরুদাসপুর ও আনন্দনগর এলাকার পানিসংকট অনেকটাই কমবে এবং পৌরসভার রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!