ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন

প্রথম দফা ভোটে ‘পাল্লাভারী’র পাল্টাপাল্টি দাবি

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১২:৪৮ এএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় ১৫২ আসনে রেকর্ড ভোট প্রদানের পর এখন ‘জয়-পরাজয়’ নিয়ে হিসাব কষতে শুরু করেছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। গত বৃহস্পতিবার ভোট শেষে রাতে দল দুটির নেতাদের বরাতে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের দাবি, তারা সরকার গড়ার কাছাকাছি সংখ্যায় ইতিমধ্যে পৌঁছে গেয়ে! দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল নির্বাচন হবে শাসক দলের ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণবঙ্গে। সেই ভোটের সংখ্যা যোগ হওয়ার পর বিজেপি ‘দুরমুশ’ হয়ে যাবে।

অপরদিকে এনডিটিভি বলছে, নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিজেপি কার্যালয়ে ছিলেন দলটির শীর্ষ নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি সমর্থকদের স্লোগান আর উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে তিনি বলেছেন, ‘এবার আমরা নিশ্চিতভাবেই জিতব। যেসব আসনে জেতা কঠিন বলে মনে করা হয়, আমরা সেই আসনগুলোতেও লড়াই করব।’

এনডিটিভিকে অমিত শাহ বলেন, প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে গুন্ডামুক্ত ভোট হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুন্ডারা অসহায় হয়ে পড়েছে। তারা বড় মাপের কোনো সহিংসতা করতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন ও আধা সামরিক বাহিনী অত্যন্ত ভালো কাজ করেছে। এ কারণেই ভোটের ফলে বাংলার মানুষের প্রকৃত ইচ্ছা প্রতিফলিত হবে।

মঙ্গলবার রাজ্যের বিধানসভার মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে ১৫২টিতে ভোট হয়। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে নির্বাচন হবে। এতে কে জয়ী হচ্ছে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৪ মে পর্যন্ত। সরকার গঠনের জন্য যে কোনো দলের অন্তত ১৪৮ আসনে জিততেই হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দফার নির্বাচনে মঙ্গলবার ৯১ দশমিক ৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে; যা ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ভোটদানের হার।

অমিত শাহর দাবি, এই উচ্চ হারের ভোটদানের অর্থ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের দিন শেষ হয়ে এসেছে।

অন্যদিকে আনন্দবাজারের কাছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতা কুনাল ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু দাবি করেন, খুব কম করে হলেও ১৫২টি আসনের মধ্যে ১২৫টিতে জিততে চলেছে তৃণমূল। কুনালের ভাষায়, খুব কম হলেও তৃণমূল ১২৫টি আসন জিততে চলেছে। এই সংখ্যা বেড়ে ১৩৫ আসনও হতে পারে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতার বৌবাজার ব্যাংক অব ইন্ডিয়া মোড়ে এক জনসভায় তৃণমূল নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমি যদি মানুষের নাড়ি বুঝতে পারি, তাহলে আপনাদের বলি, আমরা ইতিমধ্যে চালকের আসনে বসে আছি। এবার প্রত্যেকেই ভোট দিয়েছেন। কারণ, কেউ কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না। যেহেতু অসংখ্য মানুষের নাম নির্মমভাবে বাদ (ভোটার তালিকা সংশোধনী-এসআইআর) দেওয়া হয়েছে। আমি চাই ভোট গণনাও যেন সঠিকভাবে হয়।’

কী কারণে এখনই তৃণমূল বিপুল আসনে জয়ের দাবি করছেÑ এমন প্রশ্নে কুনাল ঘোষ আনন্দবাজারকে বলেন, ‘আমরা জানতাম বিপুল ভোট পড়বে। কারণ এসআইআর করে যেমন মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তেমনি বহু বৈধ নাগরিককেও ভোটের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে যাদের নাম রয়েছে, তারা চক্রান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। বিপুলসংখ্যক নারী ভোট দিয়েছেন, যে সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই গেছে। বিজেপির কোমর ভেঙে গিয়েছে।’