ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল তিন সপ্তাহ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ১২:৫১ এএম

হোয়াইট হাউসে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পর্যায়ের এক বৈঠকের পর লেবানন ও ইসরায়েল তাদের যুদ্ধবিরতি তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার তিনি ওভাল অফিসে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লাইতার ও যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াওয়াদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আয়োজন করেন। দুই রাষ্ট্রদূতের আগের বৈঠকও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হয়েছিল, যেখানে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। ওই বিরতি রোববার শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই বৃহস্পতিবার ওই বিরতির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়ল। প্রথম দফা যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েল একাধিক হামলা চালিয়েছে; বুধবারই তাদের হামলায় এক সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচজন নিহতও হয়।

‘চমৎকার বৈঠক হয়েছে। হিজবুল্লাহর হাত থেকে লেবাননকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছে।’ ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া লেবাননের ইরান সমর্থিত রাজনৈতিক-সামরিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ওভাল অফিসের বৈঠকে ছিল না। ইসরায়েলি বাহিনীকে ‘দখলদার’ আখ্যা দিয়ে তারা বলছে, ‘দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার’ অধিকার তাদের রয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, নিকট ভবিষ্যতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে আতিথেয়তা দিতে তিনি মুখিয়ে আছেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নিয়ে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিন সপ্তাহের বিরতি চলাকালে লেবানন ও ইসরায়েলের নেতারা আবারও বসবেন বলে তিনি আশা করছেন। ‘দুই দেশ এ বছরই একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাবে এমন চমৎকার সম্ভাবনা রয়েছে।’ বলেছেন তিনি।

বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকেবি ও লেবাননে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দফা যুদ্ধবিরতির কারণে লেবাননে সহিংসতার পরিমাণ অনেকখানি কমলেও দেশটির দক্ষিণে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত ছিল। ওই এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী স্বঘোষিত একটি ‘বাফার জোনের’ দখলও নিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে যাওয়া রাষ্ট্রদূত মোয়াওয়াদ বৈঠক আয়োজনের জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেছেন, ‘আপনার সহায়তা, সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা আবার লেবাননকে মহান বানাতে পারব।’

লেবাননের এক কর্মকর্তা এর আগে বলেছিলেন, আলোচনার পরের ধাপে তারা লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ইসরায়েলে আটক লেবাননের নাগরিকদের দেশে ফেরানো এবং স্থলসীমান্ত চিহ্নিত করার দাবি আদায়ের চেষ্টা করবেন।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহর ব্যাপারে লেবানন সরকারের সঙ্গে এক জায়গায় দাঁড়াতে চাইছে তেল আবিব। গত এক বছর ধরে বৈরুত শান্তিপূর্ণ উপায়ে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে চেষ্টা চালিয়ে গেছে।

ওভাল অফিসে বৈঠকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত লাইতার বলেছেন, হিজবুল্লাহকে নির্মূল কীভাবে করা যায়, আলোচনায় সে ব্যাপারে প্রাধান্য দিতে হবে, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নয়।

‘হিজবুল্লাহ ও আইআরজিসি’র চরদের সঙ্গে যদি খুবই কোমল আচরণ করা অব্যাহত থাকে, তাহলে আমাদের পারস্পরিক অভিন্ন লক্ষ্য অর্জন অসম্ভবই থেকে যাবে।’ লাইতার এমনটাই বলেছেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনের ইসরায়েল দূতাবাস।

হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সহযোগিতা করবেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে বিস্তারিত উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘লেবাননের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চমৎকার সম্পর্ক আছে।’ হিজবুল্লাহ’র আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষায় সক্ষমতা থাকা ইসরায়েলের জন্য আবশ্যক, বলেছেন তিনি। তিনি লেবাননকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগবিরোধী আইনগুলো বাতিল করতেও বলেন।

‘ইসরায়েলের সঙ্গে কথা বলা অপরাধ?’ সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণবিরোধী আইন বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি সম্ভবত এ ধরনের আইন সম্বন্ধে জানতেন না বলেই সে সময় মনে হচ্ছিল। ‘ঠিক আছে, আমি নিশ্চিত যে এটার দ্রুত ইতি ঘটবে। আমি তা নিশ্চিত করব।’ বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।