যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও লেবাননে থামছে না ইসরায়েলের হামলা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে চিকিৎসাকেন্দ্র ও উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবেইল জেলার কালাউইয়া ও তিবনিন এলাকায় দুটি চিকিৎসাকেন্দ্রে সরাসরি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত কর্মীরা হতাহত হন। মন্ত্রণালয় বলেছে, চলমান হামলা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
গত ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বরং উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত ২ মার্চ নতুন সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত এবং প্রায় ৮ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, মার্চের পর থেকে ১৩০টির বেশি হামলায় অন্তত ১০৩ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৩০ জন। এতে স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননের নয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে সেখানে নতুন করে বিমান ও গোলাবর্ষণ অভিযান চালানো হবে। লেবাননের স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে সারবিন ও ইয়াতের এলাকায় ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরায়েলের ‘বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ জবাবে তারা ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি লেবানিজ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পরও হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন