ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলা, পাল্টা জবাবের প্রস্তুতিতে রাশিয়া

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২৬, ০১:৪৭ এএম

পূর্ব ইউক্রেনের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলে একটি ছাত্রাবাসে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্টারোবিলস্ক শহরে রাতের আঁধারে চালানো এই হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত, ৪৮ জন আহত এবং আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া নিযুক্ত প্রশাসন। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে ছাত্রাবাসটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেনাবাহিনীকে সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের পরিকল্পনা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ক্রেমলিনে এক অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, হামলার আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না এবং এটি সরাসরি বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত। তবে ইউক্রেন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কিয়েভের দাবি, তারা ওই এলাকায় রাশিয়ার বিশেষ ড্রোন ইউনিটের একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ করে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনেই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে এবং বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়নি।

এ ঘটনায় দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। রাশিয়া যেখানে এটিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হিসেবে তুলে ধরছে, সেখানে ইউক্রেন বলছে ভবনটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

এদিকে একই সময়ে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলের নোভোরোসিস্ক বন্দরের একটি তেল সংরক্ষণ কেন্দ্রে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সফল হামলা চালানো হয়েছে। যদিও মস্কো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি, তবে রুশপন্থি কয়েকটি সূত্র হতাহতের কথা স্বীকার করেছে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ করে আসছে। সাম্প্রতিক এই ড্রোন হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।