ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

গাজায় সাড়ে ৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিখোঁজ, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২৬, ০৬:৪০ এএম

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আল-দামির। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ জন নারী ও শিশু। সংগঠনটির দাবি, অধিকাংশ মানুষ ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে অথবা বিভিন্ন স্থানে আটক রয়েছে। সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৮ হাজার ১০০ মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ত্রাণকেন্দ্রের আশপাশ থেকে শতাধিক মানুষ নিখোঁজ হয়েছে এবং বিভিন্ন সামরিক তল্লাশিচৌকিতে বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে। এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বুধবার রাতে গাজা নগরীর চারটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছে আরও কয়েকজন নারী ও শিশু। স্থানীয় সূত্র জানায়, কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছাড়াই হামলাগুলো চালানো হয়। উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজা উপত্যকায় নতুন নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত ৪০টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

খান ইউনিস এলাকায় একটি কবরস্থান গুঁড়িয়ে সেখানে সামরিক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব সামরিক অবকাঠামো গাজার বিভিন্ন জনবসতিকে ঘিরে ফেলার একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল, বসবাস এবং কৃষিকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। হতাহতদের বড় অংশই নারী ও শিশু। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিখোঁজ মানুষদের সন্ধান, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তে দ্রুত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।