ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

‘তেলাপোকা’ আন্দোলনে চাপে মোদি সরকার

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম

ভারতে তরুণদের ক্ষোভ ও হতাশার প্রতীক হয়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা পার্টি’ এখন দেশটির রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও তা দ্রুত রাজপথের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে। ভারতের প্রধান বিচারপতি কিছু বেকার তরুণকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিলেও মন্তব্যটি তরুণদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। সেই ক্ষোভ থেকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে ককরোচ জনতা পার্টি।

দলটির মূল অভিযোগ শিক্ষা ও নিয়োগব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষার ফল প্রকাশে অসঙ্গতি, মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক এবং সরকারি উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ হয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে শত শত তরুণ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের প্রধান দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ বারবার অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, অথচ জবাবদিহির কোনো সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং শিগগিরই দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ভারতের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেকারত্বও অসন্তোষের বড় কারণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চশিক্ষিত বিপুলসংখ্যক তরুণ চাকরির বাইরে রয়েছেন। অনেকের অভিযোগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল তাদের জীবনে পৌঁছাচ্ছে না। এদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানালেও প্রধান বিরোধী দল এখনো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তাৎক্ষণিকভাবে সরকার পরিবর্তনের হুমকি না হলেও তরুণদের জমে থাকা ক্ষোভের একটি শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখনো জনপ্রিয় নেতা হিসেবে বিবেচিত হন। তবে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন নতুন প্রজন্ম নিজেদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে নতুন পথ খুঁজে নিয়েছে। এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত কত দূর যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্টÑ ভারতের তরুণেরা আর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে রাজি নন।