গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হামলায় গাজানগরের কেন্দ্রস্থলে একটি তাঁবু শিবিরে দুই নারীসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শিশুসহ আরও অন্তত ১৫ জন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার ইসরায়েলি বাহিনী ওই শিবিরে বিমান হামলা চালায়। সেখানে যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি তারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও তা স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে পারেনি। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। হামাসের দাবি, ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে হবে, পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে এবং যুদ্ধবিরতির সীমারেখায় সেনাদের ফিরিয়ে নিতে হবে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৯৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা প্রায় ৭৩ হাজারে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ। ফলে যুদ্ধবিরতির আশা জাগলেও গাজাবাসীর জন্য শান্তি এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

